স্ত্রীর কাছে এইটুকু সাধ চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের!

0

৫০ লাখ টাকা নগদ, ফ্ল্যাট, প্রাইভেট কার ও ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের শিক্ষানবিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান রুবেল। অনন্যোপায় স্ত্রী ফারজানা খানম রিনি শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মামলা করেছেন ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। ফারজানা খানম রিনি জবানবন্দি গ্রহণ করে আদালত ২৯ জানুয়ারি আসামি মাসুদুর রহমান রুবেলকে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রী ফারজানা খানম রিনি বলেন, ‘রুবেলের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। এরপর আমরা আমাদের পরিবারকে না জানিয়ে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর বিয়ে করি। কিন্তু বিয়ের কথা পরিবারের কাউকে না জানাতে রুবেল চাপ দিচ্ছিল। রুবেলের শর্ত ছিল যৌতুক দিতে হবে। তা না হলে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলেও হুমকি দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির পাশাপাশি ফ্ল্যাট-গাড়িও চেয়েছে। যৌতুক দিতে না চাওয়ায় রুবেল আরেকটি বিয়ে করবে বলে হুমকি দিয়েছে। তাই আমি এর বিচার চাই।’

যৌতুক আইনের ওই মামলায় শুনানি শেষে বিচারক আসামির প্রতি সমন জারি করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফারজানা খানম রিনি বলেন, মাসুদুর রহমান গত ২৯ নভেম্বর আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে অন্যত্র বিয়ে করার হুমকি দেন তিনি। যৌতুক চেয়ে তিনি আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে একাধিকবার নির্যাতনও করেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, রিমি ও মাসুদের পরিচয় দীর্ঘদিনের। প্রেমের পরিণতি হিসেবে তাদের বিয়ে হয়। তারা পরিবারকে না জানিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেন। রিমি মাসুদকে বিয়ের কথা গোপন রাখতে বলেন এবং পরে পারিবারিকভাবে সবার সম্মতিক্রমে সামাজিক মর্যাদা দিয়ে রিমিকে ঘরে তুলবেন বলে জানান। দাম্পত্য জীবনে রিমি-মাসুদের আসল রূপ বুঝতে পারেন। একমাস ধরে মাসুদের সরকারি চাকরি ও সামাজিক মর্যাদা অনুসারে মাসুদ রিমির বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ নগদ ৫০ লাখ টাকা, একটি ফ্ল্যাট, একটি নতুন প্রাইভেটকার ও ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এনে দিতে বলেন। এর জন্য রিমিকে চাপ প্রয়োগ ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। মাসুদের পরিবারের যৌতুক দেওয়ার ক্ষমতা নেই মর্মে জানিয়ে দিলে মাসুদ তাকে নিয়ে সংসার করবে না বলে জানান এবং মোটা অংকের টাকা নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করারও হুমকি দেন।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষানবিশ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদুর রহমান রুবেল বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা যৌতুকের মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাকে ডিভোর্সের নোটিশ দেওয়ার পর আমার নামে মিথ্যা মামলাটি করা হয় । বিষয়টি পারিবারিকভাবেও সমাধান করার চেষ্টা করেছি। এর মধ্যে এই প্রচেষ্টাকে পাশ কাটিয়ে আমার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘গত দু’তিনদিন আগে মেয়েটি (রিমি) আমাকে কল করে পারিবারিক কলহের কথা জানিয়ে ছিল। তবে আমি নির্দেশনা দিয়েছিলাম সবকিছু ঠিক করে নেওয়ার। পরে আর যোগাযোগ না হওয়ায় আমি ভেবে ছিলাম সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে। তবে মামলার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হলে আমি ডিভোর্সের বিষয়টি জানতে পারি। সবকিছু জানার পর আমি তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছি অভিযুক্তকে সব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য।’

এএ/এএইচ/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন