স্টার্কের অগ্নিঝরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার দারুণ জয়

0

কারা জিততে যাচ্ছে সেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের যখন ৪৫ ওভার তখনো বলা যাচ্ছিল না। এ যেন পেন্ডুলামের কাঁটা। পেন্ডুলামের কাঁটার মতো ম্যাচটা দুলল! একবার মনে হচ্ছিল জিততে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। আবার এগিয়ে যাচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জেসন হোল্ডারের ব্যাটিংয়ে দারুণ নাটকীয়তা ছড়াল নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে। কিন্তু তিনি ফিরতেই সবশেষ! উত্তেজনা ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত মুখে হাসি অজিদের। মিচেল স্টার্কের আগুন ঝরা বোলিংয়ের সামনে আত্মসমর্পন উইন্ডিজের। বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১৫ রানে ম্যাচ জিতে নেয় অ্যারন ফ্রিঞ্চের দল।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ৪৯ ওভারে অলআউট হয়ে তুলে ২৮৮ রান। জবাব দিতে নেমে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭৩ রানে আটকে যায় উইন্ডিজ।

এনিয়ে এবারের বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচে তারা হারিয়েছিল আফগানিস্তানকে। পাকিস্তানকে হারিয়ে শুরু করা ক্যারিবীয়রা দ্বিতীয় ম্যাচে এসেই হোঁচট খেলো।

মিচেল স্টার্ক এবারের আসরে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে সহজ জয় এনে দেন

ব্যবধানটা গড়ে দিয়েছেন স্টার্ক। বল হাতে ট্রেন্ট ব্রিজে দাপট দেখালেন এই পেসার। তুলে নেন ৪৬ রানে ৫ উইকেট। এর আগে ব্যাট হাতে হাফসেঞ্চুরিতে পথ দেখিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও নাথান কোল্টার নাইল। সব মিলিয়ে ব্যাটে-বলে দাপটে ম্যাচ জিতলো বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

টার্গেটটা মামুলি ছিল না। ২৮৯। সেই লক্ষ্যে নেমে দলের রান যখন ৭ তখনই সাজঘরের পথ ধরেন এভিন লুইস। এরপর ক্রিস গেইলের উইকেট তুলে নেন স্টার্ক। বিদায়ের আগে ১৭ বলে ২১ রান করেন তিনি। এই ইনিংস খেলার পথে ছাড়িয়ে যান স্বদেশী কিংবদন্তি স্যার ভিভ রিচার্ডসকে।

বিশ্বকাপে উইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রান সংগ্রহে এখন দুইয়ে গেইল। পেছনে স্যার ভিভ। সামনে আছেন আরেক কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা। বিশ্বকাপে ২৩ ম্যাচে ১০১৩ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দুইয়ে ছিলেন রিচার্ডস। এবার তাকে টপকে গেলেন গেইল। তার সংগ্রহ ২৮ ম্যাচে ১০১৫!

গেইল ফিরতেই সাই হোপ আর নিকোলাস পুরান বেশ লড়ছিলেন। তাদের ব্যাটিং দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয় অজিদের। কিন্তু পুরান ৪০ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। তারপর ২১ রানে হেইটমায়ের ফিরে গেলে চাপে পড়ে দল। দলের রান যখন ১৯০ তখন আউট হোপ। তার ব্যাট থেকে আসে ৬৮।

ম্যাচে প্রাণ বাঁচিয়ে রেখে লড়ে যাচ্ছিলেন হোল্ডার। মনে হচ্ছিল তার ব্যাটেই অজি বধের কাব্য লেখা হবে। কিন্তু স্টার্কের দাপুটে বোলিংয়ের সঙ্গে পেরে উঠলেন না তিনি। ফিরেন ৫৭ বলে ৫১ রানে। তারপর আর লড়াই করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ৪৯ ওভারে ২৮৮/১০ (ওয়ার্নার ৩, ফিঞ্চ ৬, খাজা ১৩, স্মিথ ৭৩, ম্যাক্সওয়েল ০, স্টয়নিস ১৯, কেয়ারি ৪৫, কোল্টার-নাইল ৯২, কামিন্স ২, স্টার্ক ৮, জ্যাম্পা ০*; টমাস ২/৬৩, কটরেল ২/৫৬, রাসেল ২/৪১, ব্র্যাথওয়েট ৩/৬৭, হোল্ডার ১/২৮)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ২৭৩/৯ (গেইল ২১, লুইস ১, হোপ ৬৮, পুরান ৪০, হেটমায়ার ২১, হোল্ডার ৫১, রাসেল ১৫, ব্র্যাথওয়েট ১৬, নার্স ১৯*, কটরেল ১, টমাস ০*; স্টার্ক ৫/৪৬, কামিন্স ২/৪১, জ্যাম্পা ১/৫৮)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১৫ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: নাথান কোল্টার-নাইল

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৭৯ রানে হারায় ৫ উইকেট। এরপরই স্টিভেন স্মিথ ও নাথান কুল্টার নাইল বদলে দেন দৃশ্যপট। বল টেম্পারিংয়ের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফেরা স্টিভেন স্মিথ করেন ৭৩ রান। নাথানের ব্যাটে নার্ভাস ৯২। ঝড় তুলে গড়েন বিশ্বকাপে আট নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন কোল্টার। বিশ্বকাপে আট নম্বরে নেমে এটিই সর্বোচ্চ রানের কীর্তি। ম্যাচসেরা তিনিই।

তার আগে স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দু’জন যোগ করেন ৬৮ রান। ৬০ বলে ৪৫ রান করে ফেরেন ক্যারি। অবিচল স্মিথ বুঝিয়ে দেন কেন তিনি অপরিহার্য। নাথান কোল্টার সঙ্গে মিলে গড়েন ১০২ রানের জুটি। ৭৩ রানে এসে ওসানে থমাসের বলে আউট স্মিথ।

সেঞ্চুরিয়ার সম্ভাবনা জাগিয়ে এরপর ফেরেন কোল্টার। ৭৯ বলে ৯২ রান করে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের শিকার তিনি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি!

তারও আগে চটজলদি বিদায় নেন অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার, উসমান খাজা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয়ের সফল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ব্রিস্টলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ফেভারিটদের মতোই হারায় আফগানিস্তানকে। এবার উইন্ডিজকে হারিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে ট্রফিতেই চোখ তাদের!

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন