চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রী। এছাড়া অপর এক স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় মুরগির খামারের চার শ্রমিকসহ সাত যুবক জড়িত বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পুলিশের হাতে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া সহুদের নাল ও ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ধুপ্যাপাড়ার পাশের পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ধর্ষণের শিকার ছাত্রী নবম শ্রেণি এবং নিপীড়নের শিকার ছাত্রী অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। তারা উভয়েই উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
পুলিশ জানায়, দুই ছাত্রী বুধবার সকালে স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্শ্ববর্তী বাজালিয়া ইউনিয়নের পাহাড়ি মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখে কয়েকজন মুরগির খামারের শ্রমিক ও স্থানীয় বখাটেরা তাদের অনুসরণ করে। বিষয়টি টের পেয়ে তারা পাহাড়ের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করলেও পরে সাতজন মিলে তাদের জোর করে পাহাড়ের চূঁড়ায় নিয়ে যায়। সেখানে একজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখে, অপরজনকে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রাতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন—মো. রাকিব (২০), মানিক ইসলাম (২০), আবদুর রহিম (১৮) ও সৈয়দ (১৫)। তাদের বাড়ি উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত আরও তিনজন পলাতক রয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে চারজন মুরগির খামারের শ্রমিক। পলাতক তিনজন স্থানীয় বখাটে।
এ ঘটনায় বুধবার গভীর রাতে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে সাতকানিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার দুই শিক্ষার্থীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতের নির্দেশ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এএইচ/ডিজে




