সেন্টমার্টিন থেকে ৯৪ বস্তা বর্জ্য নিয়ে ফিরলেন ৩৯ পর্যটক

0

পর্যটকদের ফেলে রাখা বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য টানা তিন দিনে ৯৪ বস্তা প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করলেন ৩৯ জন পর্যটক মিলে। এসব প্লাস্টিক বর্জ্যের ওজন ৫৫৫ কেজি। ফেসবুকভিত্তিক ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশের (টিওবি) সদস্যরা মিলে অভিনব উদ্যোগ নিলেন।

ফেসবুকভিত্তিক ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশের (টিওবি) গ্রুপটির এমন উদ্যোগ এটিই প্রথম নয়। ২০১৮ সালেও সংগঠনটির ৫৫ জন সদস্য ১৪০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করেন। ফেসবুকে একযুগ আগে চালু হওয়া ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ (টিওবি) গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ভ্রমণপ্রিয় প্রায় ১০ লাখ মানুষ।

ফেসবুকভিত্তিক ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশের ৩৯ জন সদস্য ৩ অক্টোবর রাতে ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। সেন্টমার্টিনে পৌঁছার পর তিনটি দলে ভাগ হয়ে তারা কাজ শুরু করেন। ময়লা সংগ্রহ করার পর ময়লাভর্তি প্রতিটি ব্যাগ জমা করা হয় সেন্টমার্টিন জেটিঘাটের কাছে। এভাবে রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত মোট ৫৫৫ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করেন টিওবির সদস্যরা।

টিওবির সদস্যরা নিজ খরচে প্লাস্টিক বর্জ্য কুড়িয়ে আনলেও তাদের এই উদ্যোগে সহায়তা দেয় ড্রিম নাইট রিসোর্ট। সেন্টমার্টিন থাকাকালে টিওবির সদস্যদের বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে রিসোর্টটি।

বর্জ্য কুড়িয়ে দায়িত্ব শেষ করছে না টিওবির সদস্যরা। প্লাস্টিক বোতলে কোমল পানীয়, চিপস ও বিস্কুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বর্জ্য রি-সাইকেল ও সংগ্রহ করতে তহবিল রাখতে বাধ্য হয় সেজন্য জনস্বার্থে আদালতে রিট আবেদনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে ফেসবুকভিত্তিক সংগঠনটি।

ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ (টিওবি) গ্রুপের অন্যতম অ্যাডমিন নিয়াজ মোরশেদ বলেন, ‘আমরা যত আবর্জনা সংগ্রহ করেছি তা দ্বীপে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মোট প্লাস্টিক বর্জ্যের ৫ শতাংশও নয়। আমাদের এই অভিযান দেখে যদি কেউ ব্যবহৃত পানির বোতল না ফেলে দিয়ে ফেরত আনে তাহলেই সার্থক মনে করবো। ধীরে ধীরে সবাই যদি ভাবতে শেখেন- আমার ফেলে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য কতটা হুমকি, তাহলেই একদিন ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘জনস্বার্থে আদালতে একটি রিট আবেদন করতে চাই আমরা। যাতে কোমল পানীয় বোতল, চিপস, বিস্কুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশ বিপর্যয় রক্ষায় বর্জ্য রি-সাইকেল ও সংগ্রহের জন্য তহবিল রাখতে বাধ্য হয়।’

সিপি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন