আক্রান্ত
১১৭৬৪
সুস্থ
১৪১৪
মৃত্যু
২১৬

‘সেনা বাজার’ দরিদ্র মানুষের মানবতার বাজার

0
high flow nasal cannula – mobile

কক্সবাজারে করোনাভাইরাস ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীন অসহায় ও মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা পূরণ করতে তৃতীয় বারের মতো ‘সেনা বাজারের’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন।

বুধবার (৩ জুন) কক্সবাজার জেলার রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (রামু স্টেডিয়াম) মাঠে কাঁচা বাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের এই বাজারের আয়োজন করা হয়।

জানা যায়, সেনা সদস্যরা গ্রামের প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে উপযুক্ত দামে সবজি সংগ্রহ করে সেনা বাজারে নিয়ে আসেন। পরে তারা রামু উপজেলার জুলেখার পাড়া, খিজারী পাড়া, সিপাহীপাড়া, মন্ডলপাড়া, ফতেহারকুল, মেরুল্লা, রশিদ নগর ও ঈদগাহ এলাকার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অন্তত ৫০০ দরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করে টোকেনের মাধ্যমে এই বাজার বিতরণ করছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, সেনা বাজারের প্রবেশ পথে সেনা সদস্যদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল জীবাণুনাশক বুথ ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। এ সময় হত দরিদ্র মানুষগুলো সহায়তা পেয়ে উচ্ছ্বাস করে। এছাড়া মানবিক সহায়তার জন্য তারা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

রামুর রশিদ নগর এলাকা থেকে বাজার করতে আসা বিনয় বড়ুয়া বলেন, ‘করোনার কারণে পর্যটন নগরীতে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকায় আমরা কুটির শিল্পের কর্মচারীরা অত্যন্ত কষ্টের মাঝে আছি। তাছাড়া বর্তমানে হাতে টাকা-পয়সা একদম নেই। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চাল, আটা, লবণ, তৈল, আলু, বরবটি, কচুর লতি, লেবু, কাঁচামরিচসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

ঈদগাহ বাজার থেকে আসা সুশীল কর্মকার বলেন, ‘সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এর আগে সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরনের বাজার পরিচালনার কথা শুনেছি। আজ নিজে এসে এ বাজার থেকে সুবিধা গ্রহণ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

জানা গেছে, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার ৪টি উপজেলায় গত ২৪ মার্চ থেকেই মাঠে আছে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন। টহল কার্যক্রম ছাড়াও করোনার ভয়াবহতার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করে চলেছেন তারা। পাশাপাশি তারা পথচারীদের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক বিতরন করেন। এছাড়া নিজেদের রেশন বাঁচিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ ও সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী কর্মহীন অসহায় পরিবারের মানুষগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে সেনা সদস্যরা কক্সবাজার জেলার প্রবেশদ্বার চকরিয়ায় এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের প্রবেশদ্বারে একাধিক ডিজইনফেকশন বুথের মাধ্যমে জরুরী সরবরাহ কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও মানুষকে জীবাণুমুক্ত করছেন।

সর্বশেষ সুপার সাইক্লোন ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান’ উপদ্রুত এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বাঁধ পুনঃনির্মাণ এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও ত্রান প্রদানের মাধ্যমে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী।

এমআইটি/এমএফও

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm