সুপার ওভারে ইংল্যান্ড যেভাবে জিতল

0

সুপার ওভারের নিয়মটি বিশ্বকাপে চালু করা হলো এবার। বিশেষ করে সেমিফাইনাল আর ফাইনালে যদি টাই হয় তাহলে ম্যাচ গড়াবে সুপার ওভারে। আর নিয়ম চালুর বছরই সুপার ওভারেই ফয়সালা হলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ৫০ ওভারে দুই দলের রান ঠিক সমানে সমান ২৪১। ট্রফি যাবে কার ঘরে- সেই সমাধানের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনাল গড়ালে সুপার ওভারে। দারুন নাটকীয়তার সেই সুপার ওভারে শেষ পর্যন্ত জিতলো ইংল্যান্ড।

সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে জস বাটলার ও বেন স্টোকসের জুটি ১৫ রান তোলেন। স্টোক ৩ বলে ৮ ও বাটলার ৩ বলে ৭ রান করেন। সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডের হয়ে বোলিং করেন ট্রেন্ট বোল্ট। নিউজিল্যান্ডের জয়ের টার্গেট দাড়ায় ১৬ রানের। কিন্তু আটকে যায় ঠিক ১৫ রানে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচে বাউন্ডারির সংখ্যা বেশি থাকায় ফাইনাল জেতে ইংল্যান্ড।

সুপার ওভারের শেষ বল। মার্টিন গাপটিল ঝাঁপ দিলেন। ওদিকে জস বাটলারও ঝাঁপ দিলেন বল ধরে স্টাম্প ভাঙার জন্য। অনেক পিছিয়ে থাকা গাপটিলের পক্ষে সম্ভব হলো না বাটলারকে পেছনে ফেলা। ভাঙল স্টাম্প, সুপার ওভারেও হলো টাই। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড দুই দলই ১৫ রান নিয়েছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম সুপার ওভারও শেষ হলো টাইয়ে!

টাই হলেও বাটলার কেন অত আনন্দ নিয়ে ছুটতে লাগলেন? জো রুট কেন বেয়ারস্টোকে জড়িয়ে ধরে ওভাবে চিৎকার করতে লাগলেন? বোলার জফরা আর্চারই বা কেন ওভাবে কী করবেন বুঝতে না পেরে একা একাই উদ্‌যাপন করতে লেগে গেলেন! লর্ডসের বিখ্যাত গ্যালারিও কেন নিজেদের সেই ঐতিহ্যের গাম্ভীর্য ভুলে ওভাবে আনন্দের আতিশয্যে ভাসতে লাগল?

সুপার ওভারের শেষ বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে গেলেন গাপটিল।

কারণ, সুপার ওভারের নিয়ম। সুপার ওভারে যদি দুই দল সমান রান করে তখন বাউন্ডারির হিসাব চলে আসে। মূল ম্যাচ ও সুপার ওভার মিলিয়ে যে দল সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারি মারবে তারাই জিতবে সুপার ওভার। সেখানে যদি দুই দলে সমতা থাকে তখন দেখা হবে সুপার ওভারে কারা বাউন্ডারি বেশি মেরেছে তার। সুপার ওভারে জিমি নিশাম নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটি ছক্কা মেরেছেন, ওদিকে বাটলার ও স্টোকস মেরেছেন দুই চার।

কিন্তু সমতা হলে ইংল্যান্ড জিতবে সেটা আগেই জানা ছিল। নিউজিল্যান্ড মূল ইনিংসে ১৬টি বাউন্ডারি মেরেছিল। আর ইংল্যান্ড মেরেছিল ২৪টি। ফলে সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ড যত বাউন্ডারিই মারুক না কেন ইংল্যান্ডকে টপকাতে পারত না তারা। আর এ কারণেই সুপার ওভারে টাই হওয়ার পরও কোনো চিন্তা ছাড়া পাগলাটে আনন্দে মাতল ইংল্যান্ড। তিনটি ফাইনাল হারার দুঃখ ভুলে লর্ডসেই ট্রফি নিয়ে উদ্‌যাপন করল ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের খেলা সুপার ওভার:

প্রথম বল: বোল্টের বলে তিন রান নিলেন বেন স্টোকস।
দ্বিতীয় বল: বাটলারের ব্যাটে ইংল্যান্ড পেলো ১ রান।
তৃতীয় বল: বেন স্টোকস বাউন্ডারি হাকাঁলেন। মিডউইকেট দিয়ে বল বাউন্ডারি লাইন পার করলো।
চতুর্থ বল: স্টোকস পেলেন ১ রান।
পঞ্চম বল: বাটলারের ব্যাটে এলো দুই রান। খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হলোও দ্বিতীয় রানটা পুরো করেন বাটলার।
ষষ্ঠ বল: বোল্ট ইয়র্কার করেন। বাটলার জায়গায় দাড়িয়ে সেই বল দারুণ দক্ষতার সঙ্গে বাউন্ডারিতে পাঠালেন।
সুপার ওভারে ইংল্যান্ডের সঞ্চয় দাড়ালো ১৫ রান।

সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ব্যাট করতে নামেন মারটিন গাপটিল ও জেমস নিসাম। সুপার ওভারে বল হাতে দলকে জেতানোর দায়িত্ব চাপে জোফরা আর্চারের ওপর।

নিউজিল্যান্ডের খেলা সুপার ওভার:

প্রথম বল: জোফরা আর্চার অফস্ট্যাম্পের বাইরে বল দিলেন। আম্পায়ার জানালেন ওয়াাইড বল।
প্রথম বল: দ্রুতগতিতে দুই রান নিলেন জেমস নিসাম।
দ্বিতীয় বল: মিডউইকেট দিয়ে জেমস নিসামের ছক্কা!
তৃতীয় বল: আবারো মিডউইকেটে বল ঠেলে নিসাম দৌড়ে নিলেন দুই রান।
পরের তিন বলে বিশ্বকাপ জিততে চাই ৫ রান!
চতুর্থ বল: ফের একই জায়গায় বল পাঠালেন নিসাম। একই কায়দায় দৌড়ে নিলেন দুই রান।
শেষ দুই বলে ৩ রান নিলেই বিশ্বকাপ নিউজিল্যান্ডের!
পঞ্চম বল: পুল শট খেলেন জেসম নিসাম। কিন্তু বল তার ব্যাটের কানায় লেগে সামনে পড়ে। এক রানের বেশি এলো না এই বলে।
শেষ বলে নিউজিল্যান্ডের জিততে প্রয়োজন ২ রান।
ষষ্ঠ বল: জোফরা আর্চার অনেকক্ষণ পরামর্শ করলেন। স্ট্রাইকে তখন মারটিন গাপটিল। মিডউইকেটে ঠেলে গাপটিল দুই রানের জন্য দৌড়ালেন। প্রথম রান ঠিক নিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে পারলেন না। মিড উইকেট থেকে দুর্দান্ত থ্রো করলেন জেসন রয়। উইকেটকিপার জস বাটলার থ্রোটা ধরেই রান আউট করলেন। ইংল্যান্ড সুপার ওভার জিতলো ১ রানে। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ!

পুরো মাঠ জুড়ে তখন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা পাগলের মতো ছোটাছুটি করছে। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে সবাই মাঠে লুটোপুটি করছেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন