সুগন্ধার ফ্ল্যাটে পারসোনা বিউটি পার্লারের নারীকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

ভোর রাতে ফোনালাপ দুজনের সঙ্গে

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন সুগন্ধা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হলো পারসোনা বিউটি পার্লারের কর্মী রুবিনা আক্তার রুবি (৪১)-এর মরদেহ। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত প্ররোচনার ফল—এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জটিলতা ও প্রশ্ন।

চট্টগ্রামে পারসোনা বিউটি পার্লারের কর্মী ছিলেন রুবিনা আক্তার রুবি
চট্টগ্রামে পারসোনা বিউটি পার্লারের কর্মী ছিলেন রুবিনা আক্তার রুবি

ঘটনার দিন

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভাড়া বাসার দরজা খোলা দেখে বাড়ির মালিক ভেতরে ঢুকে রুবিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

প্রাথমিক তদন্তে মোবাইল ফোন

ঘটনার পর রুবিনার মামা লোকমান হোসেন আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় দুজনকে আসামি করা হয়—রাশেদ উদ্দিন (৪৫) ও মো. শরীফ (২০)।

পাঁচলাইশ থানা পুলিশ রুবিনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দাবি করে, মৃত্যুর আগে ভোর রাতে ওই দুইজনের সঙ্গে তার একাধিকবার ফোনালাপ হয়েছে। এর সূত্র ধরে শরীফকে প্রথমে এবং পরে অভিযান চালিয়ে রাশেদকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

রহস্য ও অমীমাংসিত প্রশ্ন

এখানেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। রুবিনা কেন হঠাৎ আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিলেন? ফোনালাপে আসামিরা আসলেই তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছিলেন, নাকি বিষয়টি ছিল অন্য কোনো মানসিক সংকটের ফল? দরজা খোলা রেখে আত্মহত্যা তাও রহস্যজনক! একই সাথে সুগন্ধা আবাসিকের প্রতিটি বাসায় সিসিটিভি সুরক্ষিত এলাকা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে কিনা।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কর্মস্থলের চাপ নাকি পারিবারিক কারণ—আসল প্রেক্ষাপট কী?

পুলিশ এখনও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু জানায়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নুরুজ্জামানও সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি। তবে ঘটনার অনুসন্ধান চলছে বলে জানান তিনি।

পরিবারের বক্তব্য

রুবিনার মামা লোকমান হোসেন বলেন,
“আমার ভাগনি মায়ের দায়িত্ব নিতে বিয়ে করেনি। ২৯ বছর ধরে চট্টগ্রামে কাজ করছেন। হঠাৎ কেন আত্মহত্যা করবে? কে বা কারা তাকে এমন পরিণতির দিকে ঠেলে দিল, আমরা তার সঠিক তদন্ত চাই।”

মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে অন্য ঘটনার সঙ্গে

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের আরেকটি বিউটি পার্লারে কর্মরত তরুণী প্রিয়াঙ্কা একইভাবে আত্মহত্যা করেন। সেই ঘটনাতেও প্রশ্ন উঠেছিল মানসিক চাপ ও সম্পর্কজনিত দ্বন্দ্ব নিয়ে।

ফলে প্রশ্ন জাগছে চট্টগ্রামের পার্লারকর্মী নারীদের বারবার এভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে কি কোনো লুকানো সামাজিক, মানসিক বা পেশাগত চাপ কাজ করছে?

রুবিনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও অজানা। আত্মহত্যা নাকি প্ররোচনা—তার উত্তর খুঁজছে পরিবার ও পুলিশ। কিন্তু এর মধ্যেই চট্টগ্রামে বিউটি পার্লারের কর্মীদের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও সন্দেহের নতুন আবহ।

জেজে/সিপি

ksrm