সীমান্ত পেরিয়ে ফের ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় রিপন খুনের চার আসামি

সমঝোতা হলেই ফিরবেন চট্টগ্রামে

0

চট্টগ্রামের বায়েজিদের রিপন হত্যা মামলায় ‘জামিন’ নিশ্চিত হওয়ায় সীমান্ত পার হয়ে দেশে ফিরেছেন রিপন হত্যা মামলার প্রধান চার আসামি— আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, দিদারুল আলম, পানি জসিম ও মিল্টন বড়ুয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারত পালানোর মাত্র ৭ দিনের মাথায় সব ঠিকঠাক করে দেশে ফিরলেন তারা। এই চার আসামিই বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তবে আদালত সূত্র থেকে সেটি নিশ্চিত হতে পারেনি চট্টগ্রাম প্রতিদিন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে স্থানীয় দালালচক্রের সহযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে একসঙ্গে বাংলাদেশে ফিরেছেন রিপন হত্যা মামলার প্রধান চার আসামি— আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, দিদারুল আলম, পানি জসিম ও মিল্টন বড়ুয়া। এখনও তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছেন জানিয়ে ওই সূত্র জানান, শনিবার কিংবা রোববার তাদের চট্টগ্রামে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিপন হত্যার দুই দিন পরে ২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সড়কপথে আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান এই চার আসামি। যদিও চট্টগ্রাম প্রতিদিনের জিজ্ঞাসার জবাবে পুলিশ তখন বলেছিল, রিপন হত্যামামলার আসামিদের বিষয়ে সীমান্তসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় ‘অ্যালার্ট’ দেওয়া আছে। তাদের ভারতে চলে যাওয়ার বিষয়ে কোন তথ্য নেই পুলিশের কাছে।

বায়েজিদে রিপন হত্যা মামলার তিন আসামি আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মিল্টন বড়ুয়া (মাঝে) ও দিদারুল আলম
বায়েজিদে রিপন হত্যা মামলার তিন আসামি আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মিল্টন বড়ুয়া (মাঝে) ও দিদারুল আলম

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিল্টন বড়ুয়ার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তারা। আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের পর রিপন হত্যামামলার ঘটনায় স্থানীয় ও রাজনৈতিক পর্যায়ে সমঝোতা হলেই তারা চট্টগ্রামে ফিরবেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর ২০১৯) রাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল বাবুর বাসা থেকে মেজবান শেষে ফেরার পথে শেরশাহ বাজার সংলগ্ন ফরিদ কমিশনারের বাড়ির পেছনে ছুরিকাঘাতে নিহত হন রিপন। কাউন্সিলর বাবুর অনুসারী ছিলেন রিপন।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে নিহত রিপনের ভাই মোহাম্মদ আজাদ বাদি হয়ে মহিউদ্দিন, দিদারসহ ২৮ জনের নামসহ ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার রাতেই মোমিন (৩১), শওকত (২১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় এমদাদ (৩৬) নামে আরও একজন। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) মো. আনোয়ার (২৫) ও জাহাঙ্গীর (৩২) নামে আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দিদারুল আলম, আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও মিল্টন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে বায়েজিদ এলাকায় ভূমিদস্যুতা, পোশাক শিল্প কারখানায় চাঁদাবাজি, ঝুট কাপড়ের ব্যবসা, রাস্তার পাশে হকারদের থেকে চাঁদা নেওয়াসহ নানা অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নগরে কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগেও র‍্যাব ও পুলিশের তালিকায় নাম আছে আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের।

এআরটি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন