চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আট বছরের শিশু ইরা মনিকে শ্বাসনালী কেটে হত্যার ঘটনায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম বাবু শেখ। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
রায়ে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অপরাধে বাবু শেখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আ ন ম কামরুল হাসনাত চৌধুরী। বাদিপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু এবং অ্যাডভোকেট রিক্তা বড়ুয়া।
আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট বিবেকানন্দ চৌধুরী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ইরাকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে গিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইরার গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার মাত্র চার মাসের মাথায় মামলাটির বিচারকাজ শেষ হয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। মামলার আসামি বাবু শেখ গত ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। এর আগে মাত্র ছয় কার্যদিবসেমামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছে।
বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, শিশু ইরার ওপর সংঘটিত অপরাধ ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও মানবতাবিরোধী। রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদিপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। আমরা মনে করি, এই রায় ভবিষ্যতে শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
আইএমই/ডিজে




