s alam cement
আক্রান্ত
৪৫৭০৮
সুস্থ
৩৪৯৫২
মৃত্যু
৪৩৭

সিডিএর দুই মামলা নিয়ে তুলকালাম, বিচারে অনাস্থা জানিয়ে হাইকোর্টে দুদক

0

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুটি মামলায় চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতে চলমান বিচারকাজের ওপর অনাস্থা জানিয়ে মামলাগুলো অন্য কোনো আদালতে নিয়ে যেতে চাইছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি এ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পর ওই দুই মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মামলা দুটি সমমানের যে কোনো আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের বিচারকাজে অনাস্থা জানিয়ে রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থার মামলা প্রত্যাহার করে অন্য আদালতে বদলির আবেদনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আর দেখা যায়নি।

দুদক অভিযোগ এনেছে, চট্টগ্রামের আদালতে দুর্নীতির বিশেষ দুটি মামলায় (নং ৩৩/২০১২ ও ৩৭/২০১২) স্থানান্তর চেয়ে হাই কোর্টে আসে দুদক।) দুদক মনোনীত সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ না করে, কমিশনের পিপির আপত্তির পরও গত ১ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং পরদিন ২ নভেম্বর আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুযায়ী আসামিদের পরীক্ষার জন্য রাখা হয়। এর পরদিন কমিশনের পক্ষে সময় আবেদন দাখিল করলে সেটিও না-মঞ্জুর করা হয়। সবশেষ চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাইল হোসেন মামলাটির যুক্তিতর্কের জন্য ১০ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করেন।

এমন অবস্থায় দুদক মনে করছে, ওই আদালতে যেভাবে বিচারকাজ চলছে, তাতে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয় এবং তার সুবিধা আসামিপক্ষ পাবে।

Din Mohammed Convention Hall

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থাকে অনাস্থা জানিয়ে আদালত পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে হল হাইকোর্টে। এটি একইসঙ্গে নজিরবিহীন ও দুঃখজনক।’

চট্টগ্রাম নগরীর কালুরঘাট রোড উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর নগরীর চান্দগাঁও থানায় ২২টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ২৫ জন প্রকৌশলী ও ২২ ঠিকাদার মিলিয়ে ৪৭ জনকে আসামি করা হয়।

পরে ২০১১ সালের ২০ মে চট্টগ্রামের মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২২টি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। তবে মামলায় ৪৭ জনকে আসামি করা হলেও ছয়জনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

এজাহারে ২২ মামলার সবকটিতে সিডিএর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নূর হোসেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আলম, এম এ এন হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ মনজুর হাসান, মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নুরুল আমিন ভূঁইয়া, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান, রাজীব দাশ, মোহাম্মদ ইলিয়াস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওসমান শিকদার, মোহাম্মদ হামিদুল হক, এস্টিমেটর সৈয়দ গোলাম সরোয়ার ও রুপম কুমার চৌধুরীকে আসামি করা হয়।

এর মধ্যে কালুরঘাট রোড উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে ২০১০ সালে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় করা একটি মামলায় ১০ জন এবং অপরটিতে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত বিশেষ বিভাগীয় জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালতে মামলা দুটির যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য ১০ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে।

কেন ওই আদালত থেকে প্রত্যাহার করার আবেদন করা হয়েছে— এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছেন, ‘দুদকের মহাপরিচালকের (আইন) একটি নথি আবেদনে যুক্ত করা হয়। ওই নথিতে বলা হয়, বিশেষ মামলা নম্বর ৩৩/২০১২ ও ৩৭/২০১২ বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত, চট্টগ্রামে বিচারাধীন। ওই আদালতে কোনো বিচারক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু এসব মামলায় কমিশন মানিত সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ না করে, কমিশনের পিপির আপত্তি সত্বেও সাক্ষ্যপর্ব সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং পরদিন আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষার জন্য রাখা হয়। এর পরদিন কমিশনের পক্ষে সময় আবেদন দাখিল করলে তা না-মঞ্জুর করা হয়। কমিশনের পক্ষে মামলা প্রমাণার্থে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের উপস্থাপনের সুযোগ না দিয়ে রায় দেওয়া হলে মামলার ন্যায় বিচার পাওয়া সম্ভব নয় এবং তার সুবিধা আসামিপক্ষ পাবে।’

সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm