সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশেই ঘুষ নেওয়া হয় বলে স্বীকার করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারী। আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে সাব-রেজিস্ট্রি হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ জবানবন্দি দেন। সেখানে তারা জানান, সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই তারা দলিল নিবন্ধনের সময় ঘুষ নেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফারুক ইসলাম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি ঘুষের দুই লাখ টাকা নেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো হচ্ছিল।
এর আগে মঙ্গলবার এক আইনজীবীর অভিযোগের ভিত্তিতে পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। এ সময় ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, যে দলিল নিবন্ধনের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। সেই দলিল নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা, পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন দেওয়ার কথা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় তার বাসায় গিয়ে ওই টাকা নেওয়ার কথা ছিল।
দুদক জানিয়েছে, এক আইনজীবী তার মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য নগরের আদালত ভবনে অবস্থিত পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রাখা হয়। পরে ওই আইনজীবী দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে ওই আইনজীবী ঘুষের টাকা দিতে কার্যালয়ে যান। এ সময় দুদকের একটি দল অভিযান চালিয়ে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ তিনজনকে আটক করে।
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বলেন, তিনজনের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রার ছাড়া অপর দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশে দলিল নিবন্ধনের সময় ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
ডিজে




