চট্টগ্রামের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।
বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান জানান, শারীরিক নানা জটিলতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ছিলেন তাঁর বাবা। বুধবার সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রামের বাড়িতেই আমার বাবাকে দাফন করার কথা রয়েছে। পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মোশাররফ হোসেন ছিলেন ১৯৭২ সালের সংবিধানপ্রণেতাদের অন্যতম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বর্ষীয়ান নেতা ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মন্ত্রী হিসেবেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। পরবর্তীতে ২০১৪-২০১৯ মেয়াদেও একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ধুম গ্রামে জন্ম নেওয়া মোশাররফ হোসেন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। লাহোরে পড়াশোনার সময় ছয় দফা আন্দোলনে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধকালীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্বও দেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনের শেষ সময়ে নানা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি ছিলেন মোশাররফ হোসেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২০২৫ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তাঁর ছেলে মাহবুব রহমান রুহেলও জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন।
এএইচ/ডিজে




