সাবাশ বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

0

ম্যাচের শেষ ওভার। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য দরকার ২২ রান। অধিনায়ক বল তুলে দেন দিনের সবচে খরুচে বোলার মেহেদী হাসানের হাতে। তিনি ওভারের প্রথম বলেই ছয় খেলেন। চতুর্থ বলে ফুলটসে একটা নো করেছিলেন মেহেদী হাসান। তবে তাতে কিছু যায় আসেনি শেষ পর্যন্ত। ফ্রি-হিট থেকে কোন ফায়দায় তুলে নিতে পারেনি অজিরা। ফলে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ১০ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাঁদের বিপক্ষে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ, সেটিও দুই ম্যাচ বাকী রেখেই!

গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ চিৎকার নেই। স্টেডিয়ামজুড়ে নেই বর্ণিল আলোকসজ্জাও। তবে আছে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা ‘ফ্লাডলাইটের আলো’ আর দেশজুড়ে ছুটির আমেজ। শুক্রবার এমনিতেই সরকারি ছুটির দিন। তার ওপর চলছে ‘কঠোর বিধিনিষেধ’। চারদিকে অস্বস্তির খবরের তো আর শেষ নেই। এমন দিনে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার সিরিজ জয়ের খবর পাওয়া গেলে মন্দ হতো না। হলো তো সেটাই। তাতে গড়া হয়েছে আপাতদৃষ্টিতে ‘উৎসবহীন’ এক ইতিহাস।

দেশের ক্রিকেটে ‘স্বর্ণের অক্ষরে লেখা দিন’ চাইলে হাতে গুণে গুণে বলে দেওয়া যায়। তাতে ৬ আগস্ট অর্থাৎ আজকের দিনটা লিখে রাখাই যায়। অস্ট্রেলিয়াকে টানা তিন ম্যাচ হারিয়ে বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচের সিরিজটা নিজেদের করে নিয়েছে। ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতাপশালী দলটির বিরুদ্ধে এই প্রথম এমন কীর্তি!

সিরিজ জয়ের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ পায় ১২৭ রানের পুঁজি। জবাবে অজিরা তুলতে পারল ১১৭ রান। তাতে ১০ রানের জয় পেয়ে যায় বাংলাদেশ। আর এই জয়ের মাধ্যমে অজিদের বিপক্ষে যেকোনো ফরম্যাটে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়টাও ধরা দিল টাইগারদের হাতে। টানা তিন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর ঘটনাও এই প্রথম।

বিকেল হতেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। অভিমানী মেঘ শঙ্কা জাগায় আদৌ হবে কি না ম্যাচ। বাংলাদেশের উৎসবের দিনের অপেক্ষা কি ভাসিয়ে নিয়ে যাবে বৃষ্টি? শঙ্কা জাগে এমনও। সেটা অবশ্য শেষ অবধি হয় না। কত কত দিনের অপেক্ষা ছিল এমন কিছুর, সেটা যদি বৃষ্টি ভাসিয়ে নেয় তাহলে কী করে হবে!

Yakub Group

রান তাড়া করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলার অবশ্য বড় কারিগর মোস্তাফিজুর রহমান। শেষ দুই ওভারে সফরকারিদের দরকার ছিল ২৩ রান। এমন সময়ে ১৯তম ওভারে এসে মাত্র ১ দেন কাটার মাস্টার। তাতেই পাহাড়সমান চাপ গিয়ে পড়ে ড্যান ক্রিশ্চিয়ান আর অ্যালেক্স কারের ওপর।

তারা সেই চাপ নিতে পারেননি। ক্রিশ্চিয়ান ১০ বলে ৭ আর কারে ১৫ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন। ৬ উইকেট হাতে রেখেই হার মানে অস্ট্রেলিয়া। ২০ ওভার শেষে তোলে ৪ উইকেটে ১১৭ রান।

রান তাড়ায় নেমে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল অসিরা। ওপেন করতে নেমে অসি অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড (১) দলীয় ৮ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরত যান। নাসুম আহমেদকে পুল করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে শরিফুল ইসলামের ক্যাচ হন তিনি।

তবে দ্বিতীয় উইকেটে পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়ে তুলেন ম্যাকডরমট আর শন মার্শ। তেড়েফুরে না মেরে ওয়ানডের মতো দেখেশুনে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন তারা। ১২তম ওভারে এসে জুটিটি ভাঙতে পারতো।

কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানের ওভারের প্রথম বলে ম্যাকডরমটের সহজ ক্যাচ লংলেগ বাউন্ডারিতে ফেলে দেন শরিফুল। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৪১ বলে ৩৫ রান করা ম্যাকডরমটকে পরের ওভারেই বোল্ড করে দেন সাকিব।

তার পরের ওভারে আরও এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এবার শরিফুলের ওভারের প্রথম বলটিতেই লেগ সাইডে তুলতে গিয়ে মিডঅনে শামীম পাটোয়ারীর ক্যাচ হন ময়েচেস হেনড্রিকস (২)।

অস্ট্রেলিয়ার ওপর রানের চাপ বাড়তে থাকে। বাংলাদেশি বোলাররাও চেপে ধরেন সাধ্যমতো। শেষ তিন ওভারে দরকার ছিল ৩৪ রান। সেই চাপের সুযোগটা নেন শরিফুল।

১৮তম ওভারের প্রথম বলে লংঅফে তুলে মারতে গিয়ে নাইম শেখের ক্যাচ হন মার্শ (৪৭ বলে ৫১)। সেট ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পরই কঠিন উইকেটে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে অসিরা। পরের কাজটা সেরেছেন মোস্তাফিজ দুর্দান্ত এক ওভারে, শেষে তুলির আচড় দিয়েছেন মাহেদি।

এর আগে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ টসে জিতেন আট ম্যাচ পর। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই শুরু হয় পুরোনো অস্বস্তি। ওপেনারদের ফর্ম ভাবনায় ছিল শুরু থেকেই। তারা পারেননি এদিনও।

দুই ওপেনারের বিদায়ে অবশ্য দ্রুতই কাটিয়ে ফেলেন দুই অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান। তাদের ৪৪ রানের জুটি ভালো কিছুর বার্তাই দেয়। সাকিব ১৭ বলে ২৬ রান করে ফেরেন সাজঘরে। ভরসা হয়ে থেকে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

তিনি টিকে ছিলেন ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত। প্রথম ইনিংসের পর তার ইনিংস নিয়ে ‘প্রশ্ন’ থাকতে পারে হয়তো। ম্যাচশেষে নিশ্চয়ই আর নেই। ৫৩ বলে ৫২ রানের ইনিংসটির গুরুত্বের কথা ম্যাচজয়ের পর বুঝতে পারার কথা।

গুরুত্ব অবশ্য ছিল দুইটি ছোট্ট ইনিংসেরও। দুটিই শেষ হয়েছে রান আউটে। ৫ বলে ১১ করা নুরুল হাসান সোহান আর ১৩ বলে ১৯ রান করা আফিফ হোসেন ‍দুজনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বাংলাদেশের ১২৭ রানের সংগ্রহে।

এমএহক

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm