s alam cement
আক্রান্ত
১০২১৮২
সুস্থ
৮৬৮৫৬
মৃত্যু
১৩২১

সাতকানিয়ার ফাঁসির আসামির রিটে কনডেম সেলের বিস্তারিত চাইলেন হাইকোর্ট

0

চট্টগ্রাম কারাগারের নির্জন কনডেম সেলে থাকা সাতকানিয়ার এক বন্দিসহ তিনজনের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের কারাগারগুলোতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কারাবন্দি ও কনডেম সেলের সংখ্যা, কারাগারের সংস্কার, ব্যবস্থাপনা, কনডেম সেলের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি সাতকানিয়ার জিল্লুর রহমান, সিলেট কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের আব্দুল বশির এবং কুমিল্লা কারাগারে থাকা খাগড়াছড়ির শাহ আলমের পক্ষে ওই আবেদনটি করা হয়।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩১ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির তারিখ রেখে এই সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তিনি আদালতে এ প্রতিবেদন দেবেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের আলাদা রুমে রাখা হয়। সে রুমে ফ্যান থাকে, সবই থাকে। যখন একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তখন ধরেই নেওয়া হয় তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে আসামির অপরাধের নির্মমতা, ভয়াবহতাকেই বিবেচনা করা হয়। দণ্ডবিধির ৩০২-এ খুন করলেই কিন্তু আদালত ফাঁসি দেয় না, অপরাধের জঘন্যতা ও বর্বরতা বিবেচনা করা হয়।

এ সময় বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করার আগে প্রথমে চিন্তা করতে হবে মৃত্যুদণ্ড দেব কি না? মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়াটা হল ব্যতিক্রম। ভারতে কিন্তু আইনটা পরিবর্তন করে ফেলেছে। আমরা পরিবর্তন করিনি। আমাদের প্রথমেই বলতে হবে ফাঁসি দিতে হবে। কেন দিলাম না এজন্য জজ সাহেবদের কারণ দেখাতে হয় যে, এই এই কারণে ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন দিলাম।’

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘জেলের আগের অবস্থাটা এখন নাই। জেলখানা এখন অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছে। এখন প্রিজনাররা টাকা দিয়ে ক্যান্টিনে খেতে পারেন। মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেন। অনেক কিছু করা যায়।’

বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘গত কয়েক বছরে কনডেম সেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেলে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাশিমপুর, কেরানীগঞ্জের কারগারে ডেথ সেলে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা আর অন্য কারাগারগুলোর কী অবস্থা তা যদি আমাদের দিলে রেকর্ড হিসেবে থাকবে।’

বিচারপতি বলেন, “রিট আবেদনকারীদের উদ্বেগ হল, ফাঁসি হয়েছে বলেই যে তাকে আমরা অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিনের পর দিন রাখব, বিষয়টা যেন সেরকম না হয়। উনাদের বক্তব্য হচ্ছে যতক্ষণ ফাঁসি চূড়ান্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ সবকিছুই যেন আমরা একটু মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি এবং যতটুকু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সম্ভব, সেটা দেওয়ার যেন চেষ্টা করা হয়। সরকার মনে হয় কতগুলো উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলো রেকর্ডে থাকলে ভালো হয়।’

মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যলেঞ্জ করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত তিন আসামির পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm