সাতকানিয়া-বাঁশখালীতে ন্যাশনাল হসপিটালের ত্রাণ ও মেডিকেল সেবা

চান্দগাঁও-বোয়ালখালীতে হবে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর দুর্গম এলাকায় ত্রাণ বিতরণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হসপিটালের বিশেষ ত্রাণ ও মেডিকেল টিম। বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় শিগগিরই চান্দগাঁও ও বোয়ালখালীসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনারও ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হসপিটালের নির্বাহী পরিচালক ডা. মো. আবু নাছেরের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে দুর্গত মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করে হাসপাতালের বিশেষ ত্রাণ ও মেডিকেল টিম। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চিহ্নিত করে সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

সাতকানিয়ায় কার্যক্রম শেষে ডা. মো. আবু নাছেরের নেতৃত্বে টিমটি বাঁশখালীর জলদী, সরল, বাহারছড়ি ও ইলশাসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। এ সময় জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি বদরুল ইসলাম, বাহারছড়ি ইউনিয়নের সাদুর রশীদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

বন্যার পর পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ন্যাশনাল হসপিটাল ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় দুর্গত এলাকায় বিনামূল্যে রোগ নির্ণয়, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

ডা. মো. আবু নাছের বলেন, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম-৮ আসনের চান্দগাঁও ও বোয়ালখালীসহ বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য এলাকাতেও দ্রুত সময়ের মধ্যে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে, যাতে মানুষ নিজ এলাকার কাছেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।

ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ডা. মো. আবু নাছের চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সরেজমিন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি ও সড়ক নির্মাণের কারণে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কালভার্ট ও কার্যকর স্লুইস গেটের অভাবে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর একই দুর্ভোগ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ জন্য জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে ইউনিয়নভিত্তিক সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়নে একটি কর্মশালা বা গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন।

ডা. মো. আবু নাছের বলেন, দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ন্যাশনাল হসপিটালের ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে। তিনি দেশের রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিদের দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ksrm