সাতকানিয়ায় চেয়ারম্যানের ওপর হামলা-লুটপাট ইউপি কার্যালয় দখলে নিতেই

আহত চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ভেতর চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. সাইফুল ইউনিয়ন পরিষদ দখলের উদ্দেশ্যেই গত সোমবার হামলা চালিয়েছেন।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চরতি ইউনিয়ন পরিষদের ভেতর হামলার ঘটনায় আহত রুহুল্লাহ চৌধুরী এ অভিযোগ করেছেন।

রুহুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘চরতী ইউনিয়নে সোমবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনার সময় আমার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আমি গুরুতর আহত হই। চরতী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সাইফুলের নির্দেশে তার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পাঁচটি সিএনজি যোগে এসে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে প্রবেশ করে সরাসরি আমার অফিস রুমে ঢুকে আমার উপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আমাকে মারাত্মক জখম করে। আমার ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপ, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের নথিপত্র ও নগদ টাকা অস্ত্রের মুখে লুট করে নিয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আহত অবস্থায় আমি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়, দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে আমি সরকারি ঘর বরাদ্দের নামে ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছি। অথচ আমার দায়িত্বকালীন কোনো সরকারি ঘর বরাদ্দ হয়নি। আমার ওপর হামলার সাথে সাথেই এ ধরনের মিথ্যা ভিত্তিহীন প্রমাণ ছাড়া কুৎসা রটিয়ে হামলার বৈধতা নেওয়ার চেষ্টা করেছে হামলাকারীরা।’

রুহুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘চরতী ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থাকা জনগণের কল্যাণে আমি ও আমার পরিবার যুগ যুগ ধরে কাজ করে আসছে। দেশের শীর্ষ স্থানীয় এনজিও আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে এই এলাকায় আমি এবং আমার পরিবার মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, এতিমখানা, ওজুখানা, পুকুর ঘাট, সড়ক, কালভাটসহ বহু জনকল্যাণমূলক কাজ করেছি। এত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার পর আমার বিরুদ্ধে মাত্র ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হাস্যকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অমুলক, অগ্রহণযোগ্য ও অবিশ্বাস্য।’

তিনি বলেন, ‘চরতির সাধারণ জনগণ এই অভিযোগ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। হামলার আগে কখনো এ ধরনের অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারতেন আমার বিরুদ্ধে। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।’

চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ বলেন, ‘আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করায় নির্বাচনের পর থেকে আমাকে প্রতিনিয়ত মামলা, হামলা হত্যার হুমকির পরও আমি পরিষদে গিয়েছি জনগণের কাছে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে জনগণকে সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমি এই এলাকা মানুষের সেবায় নিয়োজিত। কেউ কখনও আমার বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক অভিযোগ তুলতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘চরতির সাইফুল মেম্বার ইউনিয়ন পরিষদ দখলের সুদুরপ্রসারী হীন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য। কারণ আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের কর্মী হিসেবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাসহ গণতান্ত্রিক উপায়ে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।

রুহুল্লাহ বলেন, ‘গত ১৮ বছর ধরে এই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসছিল। কিন্তু সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীকের জন্য মনোনীত করে। আমি বিপুল ভোটে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।’

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরেই চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় রুহুল্লাহর মাথায় রক্তাক্ত জখম হন। এর আগে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর নৌকার প্রার্থীর প্রচার বহরে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় চরতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান গুরুতর আহত হয়ে এখনও শয্যাশায়ী।

চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভীর শ্যালক।

হামলার পরপরই সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জেনেছি চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ সরকারি ঘর দেবেন বলে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তি থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকার জন্য দেলোয়ার ইউনিয়নে গেলে চেয়ারম্যান তাকে মারধর করেন। পরে দেলোয়ারের লোকজনও চেয়ারম্যানের উপর হামলা করে। আমাদের দুই-তিনজন অফিসার ঘটনাস্থলে আছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!