সাউথইস্ট ব্যাংক-দৃষ্টি বিতর্ক প্রতিযোগিতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রতিযোগিতা শুরু ২১ জানুয়ারি থেকে

0

শীতের আড়ষ্টতা ভেঙ্গে এগিয়ে চলছে অগুণতি স্কুল কলেজের শতাধিক স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী। যাদের স্বপ্ন আকাশছোঁয়ার । সেই অদম্য ভবিষ্যতকে লালন করার জন্য, তাদের মুক্ত বুদ্ধি চেতনার বিকাশের জন্য সাউথইস্ট ব্যাংক দৃষ্টি চট্টগ্রামের যৌথ প্রচেষ্টায় আয়োজিত হয় দিনব্যাপী জমজমাট ইংরেজি বিতর্ক কর্মশালা। পুরো কর্মশালাটি তাদের যুক্তির চেতনাকে ধারালো করে, আলোড়িত করে আরো।

আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা । এ উপলক্ষে আজ ১৮ জানুয়ারি সকাল ১০টায় পুরাতন সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অংশগ্রহণকারী ১৬টি স্কুলের ১০৭ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রাণবন্ত প্রশিক্ষণ দেন প্রাক্তন বিতার্কিক শহিদুল মোস্তফা সাইমন ও বিতার্কিক ওয়াশিম আক্তার শান্ত।

“সাউথইস্ট ব্যাংক দৃষ্টি গেইম অব লজিক” শিরোনামে ৯ দিন ব্যাপি এই আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বিতর্ক কর্মশালা, আন্ত: স্কুল এশিয়ান পার্লামেন্টারী ডিবেট কম্পিটিশন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি ডিবেট কম্পিটিশন। প্রতিযোগিতায় সারা দেশের ১৬টি স্কুল ও ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করবে।

কর্মশালা শেষে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউথইষ্ট ব্যাংক লিমিটেড এর উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার উদ্দিন। দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি মাসুদ বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউথইষ্ট ব্যাংক লিমিটেড এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশেদুল আমিন রাশেদ ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিতার্কিক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যারয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন দৃষ্টির সহ সভাপতি বনকুসুম বড়ুয়া নুপুর, শহিদুল ইসলাম, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক মুন্না মজুমদার, বিতর্ক সম্পাদক রিদোয়ান আলম আদনান, উপ বিতর্ক সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন মজুমদার, উপ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন সম্পাদক হোসাইন সামী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন বলেন, যারা সফল মানুষ তারা অনেক বেশি শুনে, তাই তারা অনেক বেশি জানে। বিতর্কে অন্যের কথা শুনাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ শোনার মাধ্যমে অন্য জন কী যুক্তি দিচ্ছে তা বোঝা যায় এবং নিজের যুক্তিকে আরো বেশি শাণিত করা যায়। একজন নেতার বড় গুণ হচ্ছে অন্যের মতামতকে প্রধান্য দিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। তিনি বলেন, নতুন প্রতিভা বিকাশে দৃষ্টির যে প্রচেষ্টা তা প্রশংসার যোগ্য।

ব্যাংকার রাশেদুল আমীন রাশেদ বলেন, সমাজে দুই ধরণের মানুষ আছে, যাদের একপক্ষ হচ্ছে ভালোর দিকে, অন্য পক্ষ হচ্ছে খারাপের দিকে। এই ভালো খারাপের পার্থক্য বুঝার জন্য বিতর্কের যুক্তি অনেক বেশি সহায়ক। তরুণ প্রজন্মকে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে এখন থেকে বিশ্ব বাস্তবতার আলোকে নিজেকে তৈরী করতে আহবান জানিয়ে তিনি বলেন ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান বলেন, বিতর্ক আমাদের গবেষনালব্ধ জ্ঞানের বিচরণ ঘটায় ও মুক্ত বুদ্ধি চেতনাকে জাগ্রত করে। বিতর্কসহ নানাবিধ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে তরুণদের যত বেশি সম্পৃক্ত করা যাবে ততবেশি সমাজ উপকৃত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি মাসুদ বকুল বিতর্কের মত সহশিক্ষামূলক কাজে তরুণদের যত বেশি সম্পৃক্ত করা যাবে তত দ্রুত সমাজের উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে। তিনি বলেন, ২৭ বছর ধরে সমাজকে যুক্তিবাদী করতে দৃষ্টি চট্টগ্রাম বিতর্কসহ অন্যান্য সহশিক্ষামূলক কাজে করে যাচ্ছে।

আলোচনা শেষে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতা।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন