সাংবাদিক পিটিয়ে ফের গ্রেপ্তার কাউন্সিলর টিনুর সহযোগী

সাংবাদিক পিটিয়ে ফের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারের আলোচিত কাউন্সিলর নূর মোস্তফা টিনুর সহযোগী মো. কায়সার হামিদ।

‘দৈনিক খবর’ পত্রিকার বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সদস্য মো. আহমাদুর রহমান শাওনকে শারীরিক নির্যাতন করে ২৬ লাখ টাকার চেক আদায়ের ঘটনায় কায়সার হামিদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পাঁটলাইশ থানা পুলিশ। এছাড়া মৃদুল শীল (৪৮) নামের আরও একজনকে এই সময় গ্রেপ্তার করা হয়।

কায়সার বহদ্দারহাট বারৈপাড়া এলাকার শফি চৌধুরীর ছেলে এবং মৃদুল সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ শীলপাড়ার জ্ঞানেন্দ্র শীলের ছেলে।

সোমবার (৭ নভেম্বর) নগরীর চান্দগাঁও থানার খতিবেরহাট এলাকা থেকে ২৬ লাখ টাকার দুটি চেকসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কাউন্সিলর টিনুর সহযোগী হিসেবে পরিচিত কায়সার এর আগেও চাঁদাবাজির ঘটনায় একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর সিইউজে’র সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রতিদিন’র চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী এবং সিইউজে’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্যের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন কায়সার হামিদ।

সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখে বহাদ্দারহাটের এক নারীর দায়ের করা শ্লীলতাহানি ও ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় কায়সারকে।

Yakub Group

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিম উদ্দিন মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, মৃদুল শীলের সঙ্গে সাংবাদিক আহমাদুর রহমান শাওনের পরিবারের টাকা লেনদেনের বিষয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই ঘটনা ঘটে। টাকা উদ্ধারের জন্য মৃদুল স্থানীয় সন্ত্রাসী কায়সার ও লেংড়া রিফাতসহ আরো ২০-২৫ জন সন্ত্রাসীকে ভাড়া করেন। এরপর শনিবার (৫ নভেম্বর) পাঁচলাইশের কাতালগঞ্জে দৈনিক খবরের অফিসে হামলা চালিয়ে শাওনকে শারীরিক নির্যাতনসহ জিম্মি করে জোরপূর্বক ১৩ লাখ টাকার দুটি চেক লিখিয়ে নেন। এই সময় কায়সার সম্পূর্ণ ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করেন। এদের মধ্যে ল্যাংড়া রিফাতসহ বাকি সহযোগীরাও স্থানীয় ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর মোস্তফা টিনুর সহযোগী।

ঘটনার সময় সিইউজে ও প্রেস ক্লাব সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক মাখন লাল সরকার ও দৈনিক খবরের স্টাফ রিপোর্টার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী প্রতিবাদ জানালে তাদেরও মারধর করে অফিস থেকে বের করে দেয় সন্ত্রাসীরা।

ওইদিনই সাংবাদিক শাওন বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। সেই মামলায় পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) নিন্দা

সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। সংগঠনটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সরওয়ার কামালের পাঠানো একটি বিবৃতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে সিইউজে সভাপতি তপন চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্ব বিরোধের জেরে মো. আহমাদুর রহমান শাওনকে শারীরিক নির্যাতন ও জিম্মি করে ২৬ লাখ টাকার চেক আদায় করা হয়। এছাড়া প্রবীণ সাংবাদিক মাখন লাল সরকারকে লাঞ্ছিত করা হয়। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। টাকা লেনদেনের কোনো বিষয় নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় নির্যাতন ও জিম্মি করে চেক আদায় কাম্য হতে পারে না। পুলিশ ইতোমধ্যে মৃদুল কান্তি শীল ও কায়সার হামিদ নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

বিএস/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm