সাংবাদিকদের ওপর ‘মব’ রোধে ১২ বছরের সাজা রেখে আইন চায় বিএমএসএফ

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত মব হামলা, লাঞ্ছনা, হুমকি এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর সংগঠিতভাবে মব তৈরি করে হামলা, শারীরিক নির্যাতন, ক্যামেরা ও সরঞ্জাম ভাঙচুর এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ঘটনা শুধু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে না, বরং জনগণের তথ্য জানার অধিকারকেও ক্ষুণ্ণ করছে।

বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০, দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এবং অন্যান্য ফৌজদারি আইনে হামলা, ভাঙচুর ও বাধা প্রদানের বিধান থাকলেও সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধ মব হামলার মতো বিশেষ অপরাধ প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইনগত বিধান এখনও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আসে না এবং এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটে।

সাংবাদিকদের ওপর মব সৃষ্টি করে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সরঞ্জাম নষ্ট করা কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানকে একটি বিশেষ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় আনা উচিত। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে একটি পৃথক আইন প্রণয়ন করা সময়ের দাবি।

আমরা প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যে, সাংবাদিক সমাজের দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবিটি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

ksrm