চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ‘কাফনের কাপড়’ মাথায় বেঁধে বিক্ষোভ করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
২১ নভেম্বর, শুক্রবার বিকেলে আনোয়ারা উপজেলার চায়না রোড মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। মিছিলটি চৌমুহনী মোড়ে এসে জনসমাবেশে রূপ নেয়।
বিক্ষোভ মিছিলে আনোয়ারা-কর্ণফুলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেয়। এসময় নেতাকর্মীদের হাতে ‘বয়কট সরোয়ার জামাল নিজাম’ লেখা ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়।
বেশ কিছুদিন ধরে সরোয়ার জামালের প্রার্থিতা প্রত্যাহার চেয়ে এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন, এবং কুশপুত্তলিকা দাহসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করছেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রবীন বিএনপি নেতা আবুল খায়ের বলেন, যত তাড়াতাড়ি সরোয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বাতিল করে সমস্যার সমাধান করা হবে, ততই দলের জন্য মঙ্গলজনক হবে। ৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সময় আর বেশি নেই। এ মুহূর্তে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত জরুরি। মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব বেশিদিন গড়ালে বিএনপিকে চট্টগ্রাম-১৩ আসনটি হারাতে হতে পারে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, এ আসনে মনোনয়ন পাওয়া সরোয়ার জামাল নিজাম, দলের দুঃসময়ে থাকেন বিদেশে, আরাম আয়েশে। সুসময়ে এসে অসৎ পন্থায়, ভিন্ন কৌশলে মনোনয়ন বাগিয়ে নেন বার বার। তিনি একজন বিশ্বাসঘাতক ও সুবিধাবাদী ব্যক্তি। তার সাথে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। অচিরেই তাকে দেওয়া প্রাথমিক মনোয়ন প্রত্যাহার করে বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত কোনো নেতাকে ধানের শীষের প্রতীকে মনোনিত করা দাবি জানায়।
এর আগে ১৩ নভেম্বর সরোয়ার জামাল নিজামের মনোয়ন প্রত্যাহার চেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত চিঠি দেন মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন বিএনপি নেতা—দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এসএম মামুন মিয়া।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরোয়ার জামাল নিজাম ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ত্যাগ করেন এবং আওয়ামী ক্লিয়ারেন্সর ভিত্তিতে ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর দেশে ফিরে আসেন।
চিঠিতে তারা দাবি করেন, সওয়ার জামাল নিজাম ইতোপূর্বে আওয়ামী নেতা ছিলেন এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জমান চৌধুরী বাবুর নৌকা প্রতীকের প্রধান এজেন্ট ছিলেন। তার ভ্রমণ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে ভারতের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।




