আক্রান্ত
২০৮৬০
সুস্থ
১৬২৯১
মৃত্যু
৩০১

সরে গেলেন আল্লামা শফী, শেষ মুহূর্তে যা ঘটল হাটহাজারী মাদ্রাসায় (ভিডিও)

আনাস মাদানী ও নুরুল ইসলাম জাদিদকে অব্যাহতি

0

টানা দুই দিন নানা নাটকীয়তা আর আন্দোলনের মধ্যে অবশেষে স্বেচ্ছায় চট্টগ্রাম দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ‘মুহতামিম’ পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন হেফাজতে ইসলামীর আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। মজলিসে শুরার সদস্যদের কাছে মাদ্রাসা পরিচালনার ভার অর্পণ করে পদত্যাগ করলেন তিনি। পরবর্তীতে শুরা কমিটি তাকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করে। এরপরই আহমদ শফীকে মাদ্রাসা থেকে বের করে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার শুরা কমিটির সদস্যদের বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এছাড়াও ছাত্রদের তোলা ছয়টি দাবির পাঁচটি দাবিই মেনে নেওয়া হয়েছে সর্বশেষ এই বৈঠকে। ছাত্রদের বাকি যেসব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো— মাওলানা নুরুল ইসলাম জাদিদকে মাদরাসা থেকে অব্যাহতি দেয়া, শফীপুত্র আনাস মাদানীকে অব্যাহতি দান, ছাত্রদের হয়রানি না করার অঙ্গীকার। ছাত্রদের দাবি মেনে নেওয়ায় তারা মাইকে আন্দোলন সমাপ্তের ঘোষণা দেন। তবে শফীপুত্র আনাস মাদানী কর্তৃক ‘অবৈধভাবে’ অব্যাহতি দেওয়া তিনজন শিক্ষককে পুনর্বহাল করার বিষয়ে শেষ পর্যন্ত বৈঠক থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

জানা গেছে, অব্যাহতি পাওয়া ‘মুহতামিম’ আহমদ শফিকে চিকিৎসার জন্য মাদ্রাসা থেকে হাসপাতাল নেওয়ার বিষয়ে শুরুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দেয়। এক পক্ষ কোনভাবেই মাওলানা শফীকে মাদ্রাসা থেকে বাইরে যেতে দিতে রাজি ছিল না। মাওলানা শফী বাইরে গেলেই মাদ্রাসায় হামলা হওয়ার আশংকা থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছিলো তারা। পরে সকলে এ বিষয়ে ঐকমত্যে আসে।

সিদ্ধন্ত অনুযায়ী আহমদ শফীকে মাদ্রাসা থেকে বের করে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হলেও মুঈনে মুহতামিম শেখ আহমদ ও মজলিশে শূরা সদস্য মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীসহ অন্যান্য শুরা সদস্যরা মাদ্রাসাতেই অবস্থান করছেন। পাশাপাশি পরবর্তী মুহতামিম নির্ধারণের দায়িত্ব শুরা কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তা করা হবে এই বিষয়ে কোন স্পষ্ট ঘোষণা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

বৈঠক শেষে শূরা কমিটি থেকে মাইকে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মাদ্রাসাটি যেহেতু সরকারি নয়— সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার নেই জানিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন। রাত পৌনে আটটার দিকে মাদ্রাসার মসজিদের মাইক থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

মাইকে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসা সরকারি নয়। তাই এই মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকার দিতে পারে না। আমরা এ আদেশ মানি না। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’

শিক্ষার্থীরা এ সময় আরও বলেন, মাদ্রাসার শুরা কমিটির সদস্যরা বৈঠকে মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত দিলে আমরা তা মেনে নেবো। অন্যথায় আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এদিকে এশার নামাজের পর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শুরা কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেন। রাত আটটার দিকে পাওয়া এক ছবিতে দেখা গেছে, হাটহাজারী মাদ্রাসার ভেতরে মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা আহমদ শফীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, শুরা সদস্য মাওলানা নোমান ফয়জী ও মাওলানা সালাউদ্দিন, শিক্ষাসচিব মুফতী নূর আহমদ, মাওলানা কবীর ও মাওলানা দিদার। রাত নয়টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের আলোচনা চলছিল।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় করোনাকালীন সময়ে বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষ মাদ্রাসা খোলার ‘অনুমতি’ দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে সেসব শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনে মাদ্রাসাটি বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (মাদ্রাসা ২) সৈয়দ আসগর আলী সাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া সহ ৬ দফা দাবিতে গত বুধবার থেকে মাদ্রাসাটিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। দুই দিনের আন্দোলনে দফায় দফায় মাওলানা আহমদ শফি তার পুত্র আনাস মাদানীসহ মাদ্রাসার অনেক শিক্ষকের কক্ষে ভাঙচুর চালায় আন্দোলনকারীরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এ আন্দোলন শুরু করে। মাদ্রাসার প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে মাদ্রাসার ভেতরে অবস্থান নেয় বিক্ষোভরতরা।

আনাসের বাবা আহমদ শফী দেশের প্রবীণ কওমি আলেম। একইসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামের (হাটহাজারী মাদ্রাসা) মহাপরিচালকও। এছাড়া তিনি হেফাজতের আমির ও বেফাকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও রয়েছেন। হাটহাজারী মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রের অভিযোগ, আহমদ শফী দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত কারণে মাদ্রাসার প্রশাসনিক তদারকিতে অক্ষম হয়ে পড়ছেন। একাধিকবার তাকে দেশে বিদেশে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিজের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় আহমদ শফী দফতারিক কাজে ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীর ওপর নির্ভর হয়ে পড়েন। এই সুযোগে মাওলানা আনাস মাদানী হাটহাজারী মাদ্রাসা, হেফাজতে ইসলাম ও বেফাকে নিজের বলয় বাড়াতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

শাহ আহমদ শফী নিজের একক সিদ্ধান্তে ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীকে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। মাদ্রাসার মহাপরিচালকের ছেলে হিসেবে তিনি প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। তার সুপারিশের ভিত্তিতে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ, বরখাস্ত করা হয় প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে।

এআরটি/এমআইটি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm