সরকারি গাছ কেটে সাবাড়, জড়িতরাই বনায়নের উপকারভোগী

0

মিরসরাইয়ে বায়ৈয়াঢালা-বড়তাকিয়া সামাজিক বনায়নের চুক্তিভুক্ত এক উপকারভোগীসহ কিছু ব্যক্তি সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে।

সংরক্ষিত পাহাড়ের রক্ষকের সহযোগিতায় এসব গাছ ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্য ওয়াহেদপুর এলাকার বাবলু ও টিটু দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। বায়ৈয়াঢালা-বড়তাকিয়া বিট কর্মকর্তারা চোরাই কাঠ উদ্ধার করলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি।

অভিযুক্তরা হলেন চুক্তিভুক্ত উপকারভোগী মোহাম্মদ মুন্না (২৬), সরকার দলীয় নজরুল ইসলাম ভূইয়া বাবলু (৩৩),সহযোগী মো. মানিক (৪৫), মো. হাকিম আলী (৩৫), মোহাম্মদ টিটু (৩৫)। তারা সকলে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বারৈয়াঢালা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার ২০০৩-০৪ সালে স্থানীয়দের কাছে চুক্তির মাধ্যমে প্রতিজন উপকারভোগীর কাছে ১ একর করে পাহাড়ি জায়গা বরাদ্দ দেয়। সেখানে শাল গাছ, সেগুন গাছ, গামারি গাছ ও ইউক্লিপটাসসহ প্রায় ১ হাজার প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী তারা পাহাড়ি অংশে সরকার কর্তৃক তৈরিকৃত বাগানের গাছের পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। চুক্তির মেয়াদ শেষে সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করে লাভের অংশ নিয়ে যাবে তারা। কিন্তু সরকারি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বনাঞ্চলের গাছ পাহারা না দিয়ে তারা নিজেরাই কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বিটের অন্তর্গত মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকায় সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, শাল গাছ, সেগুন গাছ, গামারি গাছ ও ইউক্লিপটাস গাছসহ মূল্যবান সব গাছ কেটে নিয়ে গেছে। শুধু গাছের নিচের অংশ পড়ে রয়েছে।

খবর পেয়ে মিরসরাই থানা পুলিশ ও বারৈয়াঢালা বন বিটের কর্মকর্তারা অভিযানে গিয়ে কাউকে আটক করতে পারেনি। পরে বারৈয়াঢালা বিট কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নজরুল ইসলাম বাবুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গামারি গাছ, সেগুন গাছ ও ইউক্লিপটাস গাছসহ মোট ৪৮.৪৭ ঘন ফুট ২৪ টুকরো চোরাই কাঠ উদ্ধার করে বনবিভাগের হেফাজতে রাখা হয়।

ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এখনো পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি বনবিভাগ।

এই বিষয়ে নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘যারা গাছের ব্যবসা করে সবাই চোরাই গাছ কিনে, আমি একা না। গাছ নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয় তাহলে আইন অনুযায়ী যা হবার তাই হবে, আমি সেটার জন্য প্রস্তুত। মুন্না ও মানিক আমার পরিচিত। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আমার কাছে কিছু গাছ রেখে যায়। পরবর্তীতে বনবিভাগের লোকজন ওই গাছ নিয়ে গেছে।’

টিটু বলেন, ‘আমি গাছ বেচা-কেনা ও কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। শুনেছি রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির বাগান থেকে ৩টা সেগুন গাছ কেটে নিয়ে গেছে, সেটা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে।’

মিরসরাই থানার উপপরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম আলতাফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm