সবুজে সাজবে চট্টগ্রাম, ১০ লাখ চারাগাছ লাগাবে সিটি কর্পোরেশন

চট্টগ্রাম নগরীকে গ্রিন সিটি বানাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবার ১০ লাখ চারাগাছ রোপণ করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নগরজুড়ে সড়কদ্বীপ, পার্ক, উন্মুক্ত স্থান ও খালি জায়গাগুলোকে সবুজায়নের আওতায় এনে ‘সবুজ চট্টগ্রাম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (৭ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে টাইগারপাসের বিন্নাঘাস প্রকল্প এলাকায় মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা পরিবেশ সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রামেও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় নগরে ১০ লাখ গাছ রোপণ করা হবে। কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের মিড-আইল্যান্ডগুলো ফুল ও গাছে সাজানো হবে। পাশাপাশি পার্ক, খালি জায়গা ও উন্মুক্ত স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নগরের সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানো হবে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কদ্বীপে ২৬ প্রজাতির প্রায় সাড়ে ৬ হাজার চারা রোপণের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কাঞ্চন, কামিনী, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ ও শিউলিসহ বিভিন্ন দেশীয় ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গাছ।

শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ নয় উল্লেখ করে মেয়র বলেন, করোনা মহামারীর সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন বাঁচায়, পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি এর পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সমুদ্র, পাহাড়, নদী, খাল ও জলাশয়ে সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম প্রকৃতির এক অনন্য নগরী। এ সম্পদগুলো সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যথায় পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরের খাল-জলাশয় রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জলাবদ্ধতাও বাড়ছে। নগরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয়, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টিএ/ডিজে

ksrm