ভোটারের উপস্থিতি তেমন দেখা না গেলেও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোক্তাদের মাওলা সেলিম। অন্যদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ ও ভোটে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জিএস আবুল বাশার।
শনিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আতাউর রহমান। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোক্তাদের মাওলা সেলিম ১৭টি কেন্দ্রে ১৭ হাজার ৭১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জিএস আবুল বাশার পেয়েছেন মাত্র ৭১১ ভোট।
পৌরসভায় নয়টি ওয়ার্ডের ১৭টি কেন্দ্রের ১০০টি ভোটকক্ষে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ২৬ জন। নির্বাচনে মোট ভোট পড়ে ১৮ হাজার ৬২৬টি। এর মধ্যে বাতিল হয় ১৯৯টি ভোট।

পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হচ্ছেন— আলাউদ্দীন বাবলু (১ নং ওয়ার্ড), মো. ইউসুফ প্রকাশ চৌধুরী (২ নং ওয়ার্ড), মহব্বত বাঙ্গালী (৩ নং ওয়ার্ড), দিদারুল আলম (৪ নং ওয়ার্ড), ওয়াহিদুল আলম পারভেজ (৫ নং ওয়ার্ড), আবু তাহের (৬ নং ওয়ার্ড), শফিকুল মাওলা (৭ নং ওয়ার্ড), শাকিল উদ্দীন খোকন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত (৮ নং ওয়ার্ড), মোক্তাদের মাওলা ফয়সাল (৯ নং ওয়ার্ড)।
সংরক্ষিত মহিলা আসনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হচ্ছেন— পারভিন আক্তার (১, ২, ৩ নং ওয়ার্ড), শামীমা আক্তার সুমি (৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ড), রাহেনা বেগম (৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ড)।
সবখানে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও সন্দ্বীপ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কেন্দ্র বাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রের বাইরে কয়েকটি ফাঁকা গুলি বর্ষণে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বেশিরভাগ ভোটেকেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। দুপুরের পরে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রই ফাঁকা হয়ে পড়ে।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোক্তাদের মাওলা সেলিম সকাল আটটায় তার ৩নং ওয়ার্ডের মোমেনা সেকান্দর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জিএস আবুল বাশার ৮নং ওয়ার্ডের খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসায় একই সময়ে তার ভোট দেন।
এদিকে নির্বাচনের আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাকছুদুর রহমান জাবেদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে (উটপাখি মার্কা) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। দুপুর ১২টার দিকে ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী সেলিনা আক্তার লাভলী (চশমা মার্কা) একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
এদিকে ভোট কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থক ভোটারদের বাধা প্রদান, জোর করে নৌকা মার্কায় সিল মারা, এজেন্টদের কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে বাধা, নির্বাচনের আগে সকল প্রকার প্রচারণায় বাধাদানসহ নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জিএস আবুল বাশার। ভোটের দিন দুপুরে তিনি তার বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন আহবান করে এ অভিযোগ করেন।
সিপি




