সন্দ্বীপের ভোটার এসে ইভিএমে ‘ভোট’ দিয়ে গেলেন চান্দগাঁওয়ে

চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচন

0

চট্টগ্রাম ৮ আসনের উপনির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) গোপন কক্ষে ভোট দেওয়ার বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ছাত্রলীগের এক নেতা। আতাউল্লা খান মেহেরাব নামের ওই ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি সন্দ্বীপে, চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনে তাকে ভোট দিতে দেখা গেছে চান্দগাঁওয়ের একটি ভোট কেন্দ্রে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেহেরাব চট্টগ্রাম-৩ আসনের (সন্দ্বীপ) সারিকাইত ইউনিয়নের ২ নম্বর কেন্দ্রের ভোটার। নিজের স্ট্যাটাসেই সন্দ্বীপের ভোটার বলে স্বীকার করেছেন তিনি নিজেও।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৫ টা ২ মিনিটে ইভিএমে ভোট দেওয়ার ১০টি ছবি পোষ্ট করে মেহেরাব লিখেছেন, ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এ ভোট প্রদান সহজ এবং নির্ভরযোগ্য । ভোট দিন মাত্র দুই বোতাম চেপে। আজ ১৩.০১.২০২০ তারিখ জাতীয় সংসদ উপনির্বাচন-চট্টগ্রাম ৮ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা জনাব মোসলেম উদ্দিন আহমদকে ‘নৌকা মার্কায়’’

মেহেরাবের দেওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায় ইভিএমের গোপন কক্ষে ভোট দিচ্ছেন তিনি। এছাড়া ভোটের সময় কেন্দ্র পরিদর্শনে আসা আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিনের ছবিও রয়েছে এর মধ্যে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে ১৩৬ নাম্বার কেন্দ্রের ব্যানার। অপর একটি ছবিতে ছাত্রলীগের ওই কর্মীকে দেখা গেছে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সেলফি তুলতে।

ইভিএমে মেশিনের শেষ বোতাম চাপলেন ছাত্রলীগ নেতা। তার আগে ওই কেন্দ্র ঘুরে গেলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমেদ।
ইভিএমে মেশিনের শেষ বোতাম চাপলেন ছাত্রলীগ নেতা। তার আগে ওই কেন্দ্র ঘুরে গেলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমেদ।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চান্দগাঁও ৮ আসনের উপ নির্বাচনে ১৩৬ নম্বর কেন্দ্র ছিল এখলাসুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি চট্টগ্রাম প্রতিদিনের নজরে আনেন চান্দগাঁওয়ের একজন ভোটার। তিনি বলেন, ‘শুধু এক আসনের ভোটার হয়ে আরেক আসনে ভোট দেওয়া নয় বরং নির্বাচন চলাকালে গোপন বুথে ছবি তোলাতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। অথচ সেটাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। এই এক পোস্টেই নির্বাচনের আসল চিত্র বোঝা যাচ্ছে।’

ওই পোস্টেই সোহেল রানা নামের একজন মেহেরাবকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কোন্ আসনের ভোটার?’ জবাবে মেহেরাব বলেন, ‘প্রিয় নেতা মাহফুজুর রহমান মিতা ভাইয়ের আসনে’। প্রসঙ্গত মাহফুজুর রহমান মিতা চট্টগ্রাম ৩ আসনের (সন্দ্বীপ) সরকারদলীয় সাংসদ।

ছাত্রলীগের এই কর্মীকে দেখা গেছে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সেলফি তুলতেও।
ছাত্রলীগের এই কর্মীকে দেখা গেছে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সেলফি তুলতেও।

এক আসনের ভোটার হয়ে আরেক আসনের নির্বাচনের ভোট দেওয়ায় ফেসবুকে সমালোচনামুখর হয়েছেন অনেকেই। আসাদুজ্জামান নামের একজন মেহেরাবকে লিখেন, ‘আপনি ঐ আসনের ভোটার না হয়েও ভোট দিচ্ছেন, আবার সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন, এটা করে আপনি দলের ভাবমূর্তি কোথায় নিয়ে গেছেন আপনার কি একবারও সে চিন্তা মাথায় আসলো না?’

এই বিষয়ে কথা বলতে আতাউল্লা খান মেহেরাবের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ইভিএমের ভোট দেখতে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। তবে আমি ভোট দেইনি। ইভিএম খুব ভালো লাগায় এটি আমি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম। তবে অনেকে সমালোচনা করায় পোস্টটি আমি ডিলিট করে দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত সোমবার(১৩ জানুয়ারি)অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচন। এদিন রাত ৮ টার পর চট্টগ্রাম নগরীর জিমনেশিয়াম হল রুমের নির্বাচনী পরিবেশন কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তবে নির্বাচনে ১৭০ কেন্দ্রই দখল করে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী আবু সুফিয়ান। একই সঙ্গে নির্বাচনের অনিয়ম রোধ করতে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই উপনির্বাচন নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী আবু সুফিয়ান নির্বাচনের দিন দুপুরের পর থেকে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেছেন।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন