শোকের মাসে বাড়ির পাশের আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতেও নেই চট্টগ্রামের মেয়র রেজাউল

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকেন না, এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার মেয়রের বাড়ির পাশে হওয়া আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় উপস্থিত না থেকে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এনিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। মেয়রের নিজের ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভায় উপস্থিত না হওয়াকে দৃষ্টিকটু হিসেবে দেখছেন তারা।

শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকালে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা আয়োজন করে চান্দগাঁও থানা আওয়ামী লীগ। মেয়রের বাড়ির থেকে অল্প দূরের বহদ্দারহাট মোড়ের সভায় বিশেষ অতিথি করা হলেও উপস্থিত হননি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

অথচ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। আরও অতিথি ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নোমান আল মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আইন বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চান্দগাঁওয়ের কাউন্সিলর আশরাফুল আলমসহ মহানগর এবং থানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয় মনোনয়নে এর আগে নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন চট্টগ্রামের মেয়র হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিতির অভিযোগ ছিল না। কিন্তু শুরু থেকেই মেয়র রেজাউলের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকা অবস্থায় দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন আ জ ম নাছিরও মেয়র থাকাকালে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ছিল। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রামে থাকলে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। নোমান আল মাহমুদ ও মহিউদ্দিন বাচ্চু সংসদ সদস্য হয়েছেন, তারাও অংশ নেন। মেয়র রেজাউলেরও উচিত দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের বলেন, ‘তিনি (মেয়র রেজাউল করিম) সভায় আসবেন বলে বক্তা বাড়ানো হয়েছে। যাতে তিনি দেরীতে এলেও বক্তব্য রাখতে পারেন। সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল, কিন্তু তিনি আসেননি। আগের মেয়রদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ছিল না। দলীয় কর্মসূচিতে তিনি কেন উপস্থিত থাকেন না, এই প্রশ্নের মুখে আমাদেরকে পড়তে হয়। অফিশিয়ালি ব্যস্ত নাকি উদাসীনতা, আমি জানি।’

তিনি বলেন, ‘শুনেছি আগামীকাল আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর প্রোগ্রাম আছে। ওই অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত তিনি। দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি উপস্থিত থাকেন না বলে আমি মনে করি না।’

এই বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র রেউজাল করিম চৌধুরীকে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া মেলেনি।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানা গেছে, ২০২৩ সালে হওয়া অধিকাংশ দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন না মেয়র রেজাউল। এর আগে ২০২২ সালের বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি, ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম গণহত্যা দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি, ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, মুজিবনগর দিবস, ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ৬ দফা দিবস, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, শেখ হাসিনার কারাবরণ দিবস, শেখ হাসিনার কারা মুক্তি দিবস, শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদ সমাবেশ, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচি, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ১৪ আগস্টের আলোচনাসভায় উপস্থিত হননি রেজাউল করিম চৌধুরী।

এমনকি ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নেননি তিনি।

তারও আগে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ রশিদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভা, ৭ নভেম্বর গণতন্ত্র হত্যা দিবসের আলোচনা সভা, ৬ নভেম্বর, মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ইদরিস আলমের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভা, ৫ নভেম্বর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ’, ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভা এবং ৩ নভেম্বর জাতীয় জেল হত্যা দিবসের স্মরণসভা–কোনোটাতে দেখা যায়নি রেজাউলকে।

একইভাবে ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম শহর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য চৌধুরী এন জি মাহমুদ কামালের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভা এবং ১৯ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিনে নগর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায়ও যোগ দেননি মেয়র রেজাউল।

শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর ৩১ নম্বর আলকরন ওয়ার্ডের চারবারের কাউন্সিলর, নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য তারেক সোলায়মান সেলিমের স্মরণসভায়ও ছিলেন না রেজাউল করিম চৌধুরী। অথচ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদের মতো নেতারা ওই স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরএম/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!