শেষ মুহূর্তের প্রতিমার গায়ে তুলির আঁচড় মৃৎশিল্পীর, পটিয়ার ১৮৮ মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা

দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের পটিয়ার বেশিরভাগ মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন শুধুমাত্র রঙ করার কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। তুলির আঁচড়ে আরও সুন্দর করে তোলা হচ্ছে দুর্গা, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী, লক্ষ্মী ও মহিষাসুর। প্রতিমাপাড়ায় সকাল থেকে রাত অবধি চলছে প্রতিমার সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ। প্রতিমার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে কারিগররা নিপুণ হাতে দেবীর মুকুট, হাতের বাজু, গলার মালা, শাড়ির পাড়, প্রিন্ট, ঠাকুরের চুল ও মাথায় নানা রং করছেন। কেউ কেউ রং-তুলিতে দেবীকে ফুটিয়ে তুলছেন। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের চাহিদ অনুযায়ী নানা ধরনের প্রতিমা তৈরি হয়েছে।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ছিল মহালয়া। এদিন থেকে শুরু হয় দেবীপক্ষের। বলতে গেলে মহালয়ার পর থেকেই পূজোর আমেজ চলে আসে। প্রতিটি মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সবাই। একইসঙ্গে এ বছর উপজেলায় শারদীয় উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১৮৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এই উৎসবকে ঘিরে প্রতিমা তৈরির কারখানা ও মণ্ডপগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। অনেকে দীর্ঘ ৬ মাসে শেষ করেছেন প্রতিমা তৈরির কাজ। ষষ্ঠীতে বোধনের জন্য দেবী দুর্গাকে পূজা মণ্ডপে পৌঁছে দিতে কাজ চলছে দিন-রাত।

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে পটিয়ার তৈরি প্রতিমা সরবরাহ করা হচ্ছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায়ও। তবে খড়, বাঁশ, লোহা, রশি, মাটি ও রংসহ প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিমা তৈরিতে লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে কারিগররা।

মৃৎশিল্পী শান্তি পাল বলেন, ‘প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে তেমন লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। কারণ ক্রেতারা আগের দামেই প্রতিমা তৈরি করে নিতে চাচ্ছেন।’

Yakub Group

মুন্সেফবাজার কালি বাড়ি মন্দিরের মৃৎশিল্পী অভি দাশ বলেন, ‘প্রতিমার কাজ শেষ পর্যায়ে, এখন চলছে রংয়ের প্রলেপ ও অঙ্গ সজ্জার কাজ। নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে দিতে হবে প্রতিমা। এই মুহূর্তে দম ফেলার সুযোগ পাচ্ছি না। ৩০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকায় প্রতিমা বিক্রি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সারা বছরই আমরা প্রতিমা তৈরি করে থাকি। করোনার কারণে খরচের তুলনায় দু’বছর ধরে তেমন দাম পাচ্ছি না। বাপ-দাদারা এই পেশায় জড়িত ছিল, তাই পূর্বপুরুষের পেশা ধরে রাখতেই এখন পর্যন্ত এই পেশায় আছি। কারিগরি, প্রতিমার আনুসাঙ্গিক খরচ ও কারখানার ভাড়া দিয়ে কোনো রকমে টিকে আছি।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পটিয়া উপজেলার সমন্বয়ক পুলক চৌধুরী বলেন, ‘পটিয়ায়গতবারের তুলনায় এবার পূজার সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী পটিয়ার সকল মণ্ডপের সভাপতিকে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

পটিয়া পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রণব দাশ বলেন, ‘প্রতিবারের ন্যায় এবারও পৌরসভার ১৪টি মণ্ডপে জাঁকজমকপূর্ণ শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।’

পটিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম জানান, শারদীয় উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর থাকবে পুলিশ।

তিনি আরও জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব পালনে পূজা মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হবে।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm