শেষ বেলায় বিজয় মেলায় মানুষের ঢল

উষ্ণ শীতের বিকেলের সময়টুকু চমৎকার আমেজে কাটানোর আকর্ষণীয় স্থান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা। প্রতিদিন বিকেলে মানুষের ঢল নামে এ মেলায়। নগরীর আউটার স্টেডিয়ামের এ বিজয় মেলায় মিলছে সংসারের প্রয়োজনীয় সব পণ্য। এছাড়া মেলার মঞ্চে প্রতিদিনই পরিবেশিত হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে দোলনা, রাইডসহ বিভিন্ন ধরনের গেমস। সব কিছু মিলিয়ে মাসব্যাপী চলা মেলাটি শেষ মুহূর্তে এসেই যেন আরও বেশি জমে ওঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলার শেষ মুহূর্তে এসে দর্শনার্থীর যেন ঢল নেমেছে। চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়াম মাঠের এ মেলায় নানা পসরা সাজিয়ে বসেছে অসংখ্য স্টল। মেলায় মিলছে মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, ফুলদানি, শোপিস, মেয়েদের আকর্ষণীয় গহনা, শীতের শাল, ব্লেজার, সোয়েটার, জামদানি শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, স্যান্ডেল, শিশুদের খেলনা, মুখরোচক খাবার, খেজুরের গুড়, রকমারি আচার ও বাহারি পণ্য। মেলার শেষ সময়গুলোতে প্রতিটি স্টলে ক্রেতার ভিড়ে বিক্রেতাদের দম ফেলার ফুরসত মিলছে না।

প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। পণ্যের দাম হাতের নাগালে হওয়ায় মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত পরিবারের ক্রেতার ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে এ মেলায়।

গৃহস্থালি পণ্য কিনতে বিজয় মেলায় আসেন বেসরকারি কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম। তিনি বলেন, এ মেলায় সব ধরণের জিনিস পাওয়া যায়, যে জন্য মেলায় আসা। সব পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। অ্যালুমিনিয়ামের কড়াই, পাতিল, কলসি, দা, বটি, পিঁড়ি, কাঠ, লোহা, ননস্টিক ও স্টিলের পণ্য সব একসাথে পেয়েছি। প্রতি বছরই এ মেলার জন্য অপেক্ষা থাকি।

শেষ বেলায় বিজয় মেলায় মানুষের ঢল 1

বিভিন্ন স্টলের মধ্যে কাশ্মীরি শালঘরের স্টলটি ঘিরে তরুণ-তরুণীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শীতের তীব্রতা বাড়ায় ছেলেমেয়েদের শালের চাহিদা বেড়েছে বেশ। বেচাকেনাও হচ্ছে দেদার।

মেলায় কয়েকজন বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামে একই সময়ে কিংবা কাছাকাছি সময়ে অনেকগুলো মেলা হওয়াতে তারা খুব টেনশনে ছিলেন। দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম হবে এমন আশঙ্কা করছিলেন সবাই। কিন্তু সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মেলা খুবই জমে ওঠেছে। বেচাকেনা সন্তোষজনক।

বিজয় মেলার বিক্রেতা কাউছার আহাম্মদ বলেন, মেলার শেষ মুহূর্তে আমাদের বেচাকেনা অনেক কমে যায়। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। মেলার শেষ মুহূর্তে দম ফেলার সময় পাচ্ছি না। মেলার প্রত্যেকটা স্টল বেচাকেনার আমেজে ভরপুর। তাছাড়া মেলায় আনন্দ উপভোগে অনেক সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে।

মেলার দক্ষিণ পূর্বপ্রান্তে রয়েছে শিশুদের জন্য রাইড, বেলুন শ্যুটিং, দোলনা, দেশবন্ধু ফ্যান্টাসি পার্কের নৌকা, এসএম সারোয়ারের পরিচালনায় গেম অব ডেঞ্জার কার ও মোটরসাইকেল প্রদর্শনী।

মেলাটি চলছে ডিসেম্বর পুরো মাসব্যাপী। পলোগ্রাউন্ডে চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের এসএমই মেলার পর নগরীর আউটার স্টেডিয়ামের বিজয় মেলা অন্যরকম আকর্ষণীয় মেলায় পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামবাসীর কাছে। তবে মেলাটির বিদায় ঘন্টা বাজবে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর)।

এসএ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!