শেষ ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ

0

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়ে গেছে। সম্পন্ন হয়েছে শ্রীলঙ্কার নিজেদের মাটিতে চার বছর পর সিরিজ জয়ও। এখন অপেক্ষা আপাতত দুটো। এক. ৩-০ যেন না হয়। দুই. অন্তত ২-১ এ সিরিজের হিসেব নিয়ে ফেরা। শ্রীলঙ্কা সফরে এমন দুঃস্বপ্নের ঘেরে থেকেই আজ (৩১ জুলাই) সিরিজের শেষ ওয়ানডে খেলতে নামছে বাংলাদেশ।

সিরিজ লড়াইয়ের দিক থেকে আজকের ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ না হলেও ভিন্ন একটি উপলক্ষ আছে শ্রীলংকার। মালিঙ্গার সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে এক যুগ যিনি লংকান বোলিং আক্রমণকে টেনে নিয়েছেন, সেই নুয়ান কুলাসেকারাকে আজ বিদায় জানানো হবে। দেড় বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেন না বলে তাকে মাঠ থেকে বিদায় দেওয়া যাচ্ছে না; তবে আজকের ম্যাচটি তার নামেই উৎসর্গ করা হয়েছে। পরিবারসহ মাঠে উপস্থিত থাকার কথা আছে কুলাসেকারার। ‘ডেড রাবার’ বলে দিমুথ করুনারত্ন একাদশে একাধিক বদলও আনতে পারেন। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা আর লাহিরু থিরিমান্নের জায়গায় দেখা যেতে পারে ধাসুন শানাকা এবং ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে। মিডল অর্ডারে কুশাল মেন্ডিসকে বিশ্রাম দিয়ে নেওয়া হতে পারে শিহান জয়সুরিয়া।

বাংলাদেশ দলে এত বদল না হলেও একটি বদল প্রায় নিশ্চিত। ব্যাটিংয়ে সংগ্রাম করতে থাকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে আজ বাইরে রেখে একাদশে ঢোকানো হতে পারে এনামুল হক বিজয়কে। কলম্বোর সকালে আজ বৃষ্টির যে সম্ভাবনা, তা বেশি পরিমাণে হলে শেষ মুহূর্তে আরও পরিবর্তন যোগ হতে পারে। তবে কন্ডিশন বা একাদশ শেষ পর্যন্ত যেমনই হোক, মূল লক্ষ্য অবশ্যই হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।

ব্যাপারটা এমন। আপনি জানেন শেষ পরীক্ষায় ১০০ তে পুরো ১০০ নম্বর পেলেও ‘পাসমার্ক’ পাচ্ছেন না। তো এমন পরীক্ষায় বসার আগে অনুপ্রাণিত হওয়ার উপায় কোথায়? আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট আসলে এমনই। সবসময়ে সুখের ভেলায় ভাসবেন-এমন নজির নেই। কঠিন সময় যখন আসবে, তখন সেই কঠিনকে ভালবেসে সামনের দিনের সুখী সময়ের খোঁজে পরিশ্রম করতে হবে।

সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সেই পরিশ্রমের অপেক্ষায়। শ্রীলঙ্কার কাছে বাংলাদেশ এটাই যে প্রথমবারের মতো কোনো ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে, তাও কিন্তু নয়। বরং পরিসংখ্যান জানাচ্ছে এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা থেকে কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিতে ফিরতেই পারেনি। বছর কয়েক আগে শুধু একটি ওয়ানডে সিরিজ ড্র রাখতে সমর্থ হয়েছিলো বাংলাদেশ দল।

যে কোনো বিদেশি দলের জন্য শ্রীলঙ্কার মাটিতে ক্রিকেট কঠিন মিশন। তবে তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ যে ভঙ্গুর ক্রিকেট খেলেছে তাতে সংক্ষিপ্ত সফরটাই অনেক লম্বা ও দুঃস্বপ্নের মনে হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য।

প্রেমাদাসায় ৩১ জুলাই দিন-রাতের শেষ ম্যাচে সেই দুঃস্বপ্ন থেকে ‘মুক্তি’ পেতেই নামছে বাংলাদেশ।

ব্যক্তিগত ব্যর্থতার সমাহারেই আসলে সম্মিলিত ব্যর্থতা। প্রথম ম্যাচে সাব্বির ও মুশফিকের হাফসেঞ্চুরি এবং দ্বিতীয় ম্যাচে মুশফিক ও মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যাটিং ছাড়া সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যক্তিগত কোনো পারফরমেন্সই নেই।

আর দল বড় ব্যবধানে হারলে তখন ব্যক্তিগত কোনো ভালো পারফরমেন্স আর কি কাজে লাগে?

মুশফিক রহিমও তাই দ্বিতীয় ম্যাচে তার অপরাজিত ৯৮ রান থেকে ‘সুখ’ খুঁজতে মোটেও আগ্রহী নন। তবে শ্রীলঙ্কায় দলের টানা দুই ম্যাচে হারে বাংলাদেশ ক্রিকেট শেষ, বাংলাদেশ ক্রিকেট শেষ- বলে যারা এফিটাফ লিখতে শুরু করে দিয়েছেন তাদের জন্য মুশফিক বলছেন-‘এই দুটো ম্যাচে হারের অর্থ এটা নয় যে, পেছনের পাঁচ-সাত বছরে আমাদের যে ক্রিকেটীয় উন্নতি হয়েছে সেটা হারিয়ে গেলো! মানছি আমরা এখন কঠিন সময় ও সংগ্রামের মধ্যে যাচ্ছি। তাই এখন চ্যালেঞ্জটা একটাই-এই সময়টা পেরিয়ে ভালো সময় ফিরিয়ে আনা। আমরা সবাই সেই চেষ্টাই করছি। শেষ ম্যাচে সেই সুযোগটা আছে।’

শেষ ম্যাচ। শেষ সুযোগ। ২-১ এ তাহলে ‘সুখের সময়’ ফেরা দেখছে বাংলাদেশ!

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন