s alam cement
আক্রান্ত
১০২৩১৪
সুস্থ
৮৬৮৫৬
মৃত্যু
১৩২৮

শুরু হল বাঙালির বেদনাবিধূর শোকের মাস

চট্টগ্রামে সীমিত পরিসরে আগস্টের কর্মসূচি

0

শুরু হল বাঙালির শোকের মাস আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি জাতি হারিয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধূর শোকের দিন।

সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে বাঙালি জাতি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আগস্টকে শোকের মাস হিসেবে পালন করে আসছে।

১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট শেষ রাতে (১৫ আগস্ট) ঘাতকরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তাকে সপরিবারে নিঃশেষ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শিশু শেখ রাসেল, সদ্য বিবাহিত পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরকে সেখানে হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে বেইলি রোডে সরকারি বাসায় হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবি সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টুকে। আরেক বাসায় হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণিকে। তারা বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের বর্তমান সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং বর্তমান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বাবা-মা।

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আক্রমণ হয়েছে শুনে সেখানে যাওয়ার জন্য রওনা দেন বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ। তবে ৩২ নম্বরের সামনে পথভ্রষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে প্রথমে বাধা দেয় ও পরে হত্যা করে। এছাড়া ওইদিন ৩২ নম্বরের বাড়িতে কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড বিশ্বের বুকে নিন্দিত ও ঘৃণিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ হয়ে আছে।

সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনার স্বামী প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান।

’৭৫-এর ১৫ আগস্ট নরপিশাচরূপী খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করে।

অন্যদিকে এই আগস্ট মাসেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুঁড়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল জাতির জনকের কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ও আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগাম্ভীর্য আর বেদনাবিধূঁর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করবে।

তবে এবার জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

মাসব্যাপী আগস্টের কর্মসূচি

৫ আগস্ট শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮ টায় আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন।

৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন।

বেলা ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের শ্রদ্ধা নিবেদন। এদিন জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ১৬ আগস্ট বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।

২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন। বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঘরোয়াভাবে আলোচনা সভা।

এছাড়া ২৭ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

এছাড়া আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও শোকের মাসে পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

চট্টগ্রামে আগস্টের যতো কর্মসূচি

এদিকে শোকের মাস আগস্টের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত পরিসরে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ। সিদ্ধান্ত অনুসারে, ৫ আগস্ট শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীতে খতমে কোরআন- দোয়া মাহফিল ও দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা এবং ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকীতে খতমে কোরআন-দোয়া মাহফিল ও দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, নগর আওয়ামী লীগ কার্যালয় সংলগ্ন মসজিদে সকালে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল এবং সকাল ১০টায় বড়পুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে নগর কমিটির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে।

সেদিন সকাল ১১টায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা, বেলা ১২টায় করোনায় আক্রান্ত ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, এতিমখানা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, শাহ আমানতশাহ দরবারসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানে খাদ্য বিতরণ করার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরপর ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবসে সকাল ১০টায় দারুল ফজল মার্কেটের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা হবে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত বেগম আইভি রহমানসহ ২৪জন নিহতদের স্মরণে খতমে কোরআন ও মিলাদ-মাহফিল এবং থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বজায় রেখে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে নগরীর প্রতিটি থানা, ওয়ার্ডে খতমে কোরআন, দোয়া-মাহফিল ও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সম্প্রচার করবে।

সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm