শিপইয়ার্ড ট্র্যাজেডিতে প্রতিটি লাশ ১০ লাখ করে পাবে, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা

তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে হতাহতের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার পেছনে প্রতিষ্ঠানটির দায় থাকলে তাদের বিচারের আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

শিপইয়ার্ড ট্র্যাজেডিতে প্রতিটি লাশ ১০ লাখ করে পাবে, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা 1

শুক্রবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় তিনি নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পেছনে প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সাগরে জোয়ার থাকায় এখনো পুরোপুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি।

জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট আটজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের বিষক্রিয়ায় একজন সাংবাদিকও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং শিপইয়ার্ডে এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ এই ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং কারখানাটি ‘গ্রিন ইয়ার্ডে’ রূপান্তরিত হয়েছে বলে এর আগে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭), মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। মনসুর ও নাসির সম্পর্কে সহোদর। নিহত সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পান তাঁরা। পরে সেখানে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। তাঁদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

বিএস/সিপি

ksrm