শিক্ষার্থী ভর্তি করা মানা কক্সবাজার ইউনিভার্সিটিতে, ভুতুড়ে ভবনে কথিত ক্যাম্পাস

0

বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে মানা করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কক্সবাজার শহরে ঢোকার পথে একটি ভবনে গড়ে ওঠা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাস মোটেও শিক্ষার্থীবান্ধব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে ইউজিসি। সেজন্য নতুন স্থানে ক্যাম্পাস স্থানান্তর না করা পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা।

গত ১৭ মে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউজিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সার্বিক অবস্থা দেখতে ইউজিসির একটি তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস ভবনের শ্রেণিকক্ষসহ কোনো কক্ষই শিক্ষার্থীবান্ধব নয় এবং শিক্ষার্থী-সহায়ক পরিবেশ নেই। শ্রেণিকক্ষগুলোতে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ ও অবাধে বায়ু চলাচলের কোনো ব্যবস্থা বা সুযোগ নেই।

চিঠিতে বলা হয়, ভবনটি শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর মোড়ে অবস্থিত ও সামনের সড়ক মারাত্মক দুর্ঘটনাপ্রবণ— যেখানে মাঝেমধ্যেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।

সাময়িক সনদের মেয়াদের মধ্যে নিরিবিলি পরিবেশে যথাযথভাবে ক্যাম্পাস স্থানান্তর করতে হবে— একথা জানিয়ে ইউজিসির চিঠিতে বলা হয়, ক্যাম্পাস স্থানান্তর না করা পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

Yakub Group

চিঠিতে এও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত কমপক্ষে দুই একর নিষ্কণ্টক, অখণ্ড ও দায়মুক্ত জমি সাময়িক সনদের মেয়াদের মধ্যে কিনতে হবে। অন্যথায় সাময়িক সনদের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।

জানা গেছে, মালিকানা ছাড়াও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাস করে বের হয়েও বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা কিংবা চাকরির সুযোগটিও পাচ্ছেন না।

২০১৩ সালে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের (বিওটি) অনুকূলে ‘কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’ অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। আর সেক্রেটারি ছিলেন লায়ন মুজিবুর রহমান। ২০২০ সালে সালাহউদ্দিন আহমদ ও মুজিবুর রহমানের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে সেক্রেটারি মুজিবুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠাকালীন সব সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন একটি ট্রাস্ট গঠন করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm