শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকা অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রামে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিও জানান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নগরের ষোলশহরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনের কারণে মুরাদপুর-জিইসি সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষা বোর্ড এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বোর্ডের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান বন্যা, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ সংকটের মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ায় বহু পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সোমবার পরীক্ষা পেছানোর দাবি উপেক্ষা করে পরীক্ষা নেওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি, আবার অনেকে অসুস্থ অবস্থায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— বৈরী আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, গত ১২ ও ১৩ জুলাই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং বৃষ্টির কারণে যাদের প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট বা হারিয়ে গেছে, তাদের দ্রুত বোর্ড থেকে নতুন কাগজপত্র সরবরাহ করা।
এ ছাড়া সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য আলাদা বা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার দাবিও জানান তারা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে। প্রশ্নপত্রে ভুলের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের নতুন প্রবেশপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত সরবরাহ করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেকের ক্যালকুলেটর, প্রবেশপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় না নিয়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বন্যা পরিস্থিতি ও এইচএসসি পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রশ্নপত্রে ভুলের অভিযোগের বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। আর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবেশপত্রের বিষয়ে পরীক্ষার্থীরা বোর্ডে আবেদন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




