শান্তির হাটে অশান্তির দুর্ঘটনা, তছনছ দুই পরিবারের স্বপ্ন

বাড়ি যাওয়ার পথেই হারিয়ে গেলেন সিজিএস শিক্ষিকা নিগার

0

`ভাই আঁরা বেয়াগে তো ঝামেলাত ছিলাম। ক্যায়ায় লাশ তুলির, ক্যায়ায় গাড়ির ভিতর ক্যায়ায় আছে কিনা খুঁজি বাইর গরির। এ অবস্থায় বুঝনর উপায় নাই ড্রাইভার হন আর যাত্রী হন’- চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে আসা লাশের পরিচয় জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনার এভাবেই বর্ণনা দিচ্ছিলেন স্থানীয় উদ্ধার কর্মী মামুন।

পরে জানতে পারেন ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে দু’টি পরিবারের স্বপ্ন। স্বপত্নীক নিহত হয় জাহেদ হোসেন এবং অন্য এক পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ওমর ফরুখ। ভয়াবহ দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁপে কেঁপে উঠছিল স্থানীয় উদ্ধার কর্মী মামুনের কন্ঠ।

চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ নিয়ে তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর পরিচয় মেলাতে পারছিলেন না ব্যবসায়ী জাহিদের। পরে তার পকেটে মিলে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম কার্ড। পরে সেই ঠিকানায় অনুসন্ধান করে জাহিদের পরিচয় পান ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা। একই দুর্ঘটনায় নিহত হয় জাহেদের স্ত্রী সুলতানা নিগার। তবে সৌভাগ্যক্রমে হালকা চোট নিয়ে বেঁচে যায় তাদের কোল জুড়িয়ে রাখা ৪ বছরের ছেলে সন্তান রাহিন।

জাহিদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে পাড়ি জমান জাহিদ। তারপর শুরু করেন পরিবহন ব্যবসা। অন্যদিকে জাহিদের স্ত্রী সুলতানা নিগার ছিলেন চিটাগাং গ্রামার স্কুলের (সিজিএস)’র শিক্ষিকা। আজ সকালে এই দম্পতি একমাত্র ছেলে রাহিনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি বেড়ানোর উদ্দেশ্যে চড়েছিলেন পটিয়ার একটি বাসে। কোলে ছিল ‘আলৌকিকভাবে’বেঁচে যাওয়া শিশু রাহিন। কিন্তু হঠাৎ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই অন্তিম যাত্রায় সামিল হন রাহিনের মা-বাবা। নিহত জাহিদ ও নিগার সুলতানা চট্টগ্রাম নগরের ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম হায়দার মিন্টুর ভাগ্নে ও ভাগ্নে বউ।

তিনি চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘সকালে এ দুর্ঘটনার খবর জেনে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি। কখনো ভাবিনি এভাবে তাদের হারাতে হবে।’

পটিয়া শান্তির হাট এলাকার ওই দুর্ঘটনায় ভেঙে গেছে আরও একটি পরিবারের স্বপ্ন। নিহত হয়েছেন একটি পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ওমর ফারুখ।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন ওমর ফারুখ। প্রায় পাঁচ বছর আগে ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন বুনেন। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে খুলে বসেন ‘ফারুখ’হোটেল নামে একটি খাবার হোটেল। তার পরিবারেও রয়েছে ৩ বছরের ছোট্ট কন্যা শিশু।

নিহতের ভাগ্নে গোলাম কবির লিয়ন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘বান্দরবান যাওয়ার জন্য সকাল ১০টার দিকে ঘর থেকে বের হন মামা। কিন্তু অসময়ে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন ভাবি নি।’

মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে একে একে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন দুই পরিবারের স্বজনরা। কেউ কেউ স্মৃতিচারণ করে ঢুকরে কেঁদে উঠেন। কান্নার শব্দে ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতালের চারপাশ।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহুরুল হক ভুঁইয়া চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘ পটিয়া শান্তির হাটে দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহতের ঘটনা ছাড়াও আহত নিলু আক্তার (৩৫), আব্দুল কাদের (৩০), বাপ্পী দত্ত (৪০) অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

এএ/এসএ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন