শপথ-গেজেট ছাড়াই ‘এমপি’র ভূমিকায় ফটিকছড়ির সরওয়ার, আদালত অবমাননার শঙ্কা

সরকারি প্রকল্প উদ্বোধন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রোটোকল

মামলা চলমান, আদালতের রায় এখনও হয়নি। ঋণখেলাপির দায়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে। শপথ হয়নি, গেজেটও প্রকাশ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেই চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে একের পর এক সরকারি প্রকল্প উদ্বোধন করছেন এবং উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে বসছেন। অথচ সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শপথ গ্রহণ ও গেজেট প্রকাশের আগে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে গণ্য হন না এবং ওই পরিচয়ে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও নেই। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের ভাষ্য, এ ধরনের কার্যক্রম সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন এবং প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ অকার্যকর করে দেওয়ার শামিল হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করে এমন কর্মকাণ্ডকে প্রতারণা ও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

২৮ মার্চ দাতমারা ইউনিয়নে কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন সরওয়ার আলমগীর এবং নামফলকে ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে তাঁর নাম লেখা হয়। ১১ এপ্রিল একইভাবে ধর্মপুর ইউনিয়নের একটি সড়কে তিনটি বক্স কালভার্ট নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন তিনি।
২৮ মার্চ দাতমারা ইউনিয়নে কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন সরওয়ার আলমগীর এবং নামফলকে ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে তাঁর নাম লেখা হয়। ১১ এপ্রিল একইভাবে ধর্মপুর ইউনিয়নের একটি সড়কে তিনটি বক্স কালভার্ট নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল ও আদালতের অবস্থান

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে সরওয়ার আলমগীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। ভোটের ব্যবধান বড় হলেও সরওয়ার আলমগীরের ফলাফল আটকে গেছে আদালতের নির্দেশে। ঋণখেলাপির অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই লিভ মঞ্জুর করেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ জানান, সরওয়ার আলমগীর নির্বাচন করতে পারবেন, তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না। আইনজীবীরা জানান, আপিল শুনানিতে ঋণখেলাপি নন বলে প্রমাণিত হলে কেবল তখনই নির্বাচন কমিশন ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে তাকে সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে একুশে ফেব্রুয়ারিতেও একই ঘটনা ঘটে।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে তাকে সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে একুশে ফেব্রুয়ারিতেও একই ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এ-সংক্রান্ত আপিলের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। পূর্বনির্ধারিত তারিখ থাকলেও আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এক নম্বর বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি না থাকায় শুনানি হয়নি। আগামী ৫ মে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে নানুপুর ইউনিয়নে খাল খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রধান অতিথি, যাতে ইউএনও উপস্থিত ছিলেন।
‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে নানুপুর ইউনিয়নে খাল খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রধান অতিথি, যাতে ইউএনও উপস্থিত ছিলেন।

একের পর এক উদ্বোধন, একের পর এক অনুষ্ঠান

এই আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফটিকছড়িতে ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে ধারাবাহিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সরওয়ার আলমগীর। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে তাকে সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির চেয়ারেও বসেন তিনি ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা ‘সংসদ সদস্য’ উল্লেখ করে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারিতেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা তাঁকে ‘নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য’ উল্লেখ করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা ‘সংসদ সদস্য’ উল্লেখ করে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারিতেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা তাঁকে ‘নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য’ উল্লেখ করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

২৮ মার্চ দাতমারা ইউনিয়নে কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন সরওয়ার আলমগীর এবং নামফলকে ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে তাঁর নাম লেখা হয়। ১১ এপ্রিল একইভাবে ধর্মপুর ইউনিয়নের একটি সড়কে তিনটি বক্স কালভার্ট নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন তিনি।

২৫ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও আউশ ধানের বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানও উদ্বোধন করেন ‘সংসদ সদস্য’ সরওয়ার আলমগীর।
২৫ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও আউশ ধানের বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানও উদ্বোধন করেন ‘সংসদ সদস্য’ সরওয়ার আলমগীর।

১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রা ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন সরওয়ার আলমগীর। ২৫ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও আউশ ধানের বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানও উদ্বোধন করেন তিনি। একই দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা ‘সংসদ সদস্য’ উল্লেখ করে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারিতেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা তাঁকে ‘নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য’ উল্লেখ করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রা ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন সরওয়ার আলমগীর।
১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রা ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন সরওয়ার আলমগীর।

সংবিধান ও আইন কী বলে

সরওয়ার আলমগীরকে ঘিরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে। ফলাফল স্থগিত থাকলে তিনি আইনত ‘সংসদ সদস্য নির্বাচিত’ কি না এবং শপথ ও গেজেট ছাড়া তিনি ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন কি না। সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ একত্রে বিবেচনায় আইনজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে তিনি আইনত সংসদ সদস্য নন; বরং সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত একজন প্রার্থী, যার ফল বিচারাধীন।

২৬ মার্চ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘সংসদ সদস্য’ সরওয়ার আলমগীর।
২৬ মার্চ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘সংসদ সদস্য’ সরওয়ার আলমগীর।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক এবং তৃতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের জন্য পৃথক শপথনামা নির্ধারিত রয়েছে। ফলে নির্বাচনে জয়লাভ করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর সংসদ সদস্য হয়ে যান না। অন্যদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এবং নির্বাচনী আইনের আওতায় নির্বাচন কমিশন ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করলেই তা চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে গণ্য হয়। ফলে শপথ ও গেজেট প্রকাশ ছাড়া সংসদ সদস্যের পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা সংবিধান ও আইনের লঙ্ঘন এবং আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের পরিপন্থী, যা আদালত অবমাননার শামিলও হতে পারে। আইনজীবীদের ভাষ্য, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরওয়ার আলমগীর রাষ্ট্রের কাছে ‘স্থগিত’ অবস্থায় রয়েছেন এবং এই অবস্থায় সংসদ সদস্য হিসেবে প্রভাব বা ক্ষমতা প্রয়োগ তাঁর এখতিয়ার বহির্ভূত।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. শাহজাহান সাজু চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। কারণ এখনও নির্বাচিত হননি। শুধু ইলেকশন হলেই হবে না। গেজেট না হওয়া পর্যন্ত তিনি যদি নিজেকে সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সেটা প্রতারণা ও ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। কারণ তিনি এখনও বৈধ সংসদ সদস্য নন।

আদালত অবমাননার শঙ্কা

সংসদ সদস্যরা সরকারি প্রকল্পে যে প্রভাব রাখেন, তা তাদের সাংবিধানিক মর্যাদা থেকে আসে, যা সরওয়ার আলমগীর এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অর্জন করেননি। এ অবস্থায় সেই প্রভাব প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূত। তারা বলছেন, সরওয়ার আলমগীর যদি সরকারি প্রকল্প উদ্বোধন করেন বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে অংশ নেন, তাহলে সেটি সরাসরি আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘সরওয়ার আলমগীর সাহেব প্রধান অতিথি হিসেবে আমাদের কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না, তিনি শুধু উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির একজন নেতা হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন।’

উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বেশকিছু অনুষ্ঠানে তাকে মূল ভূমিকায় দেখা গেছে— এমন কথা স্মরণ করিয়ে দিলে ইউএনও বলেন, ‘যদি হয়ে থাকে সেটা ভুল, তবে আমার জানামতে সংসদ সদস্য হিসেবে উনাকে কোথাও রাখা হয়নি।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলছেন, উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি তাঁকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানায় বা সেভাবে প্রটোকল দেয়, তাহলে তারাও আদালতের আদেশ লঙ্ঘনে পরোক্ষভাবে অংশীদার হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে কার্যক্রম চালানো আদালতের আদেশকে অকার্যকর করে দেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এবং এটি আদালত অবমাননার আওতায় পড়তে পারে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরওয়ার আলমগীর রাষ্ট্রের কাছে ‘স্থগিত’ অবস্থায় রয়েছেন। মামলার চূড়ান্ত রায়ে ঋণখেলাপি প্রমাণিত হলে তাঁকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে কিভাবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করছেন এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মধ্যমণি থাকছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে সরওয়ার আলমগীর চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাকে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ ভোট দিয়েছে। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমার বিজয় ঠেকাতে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আদালতে মামলাও তিনিই করেছেন। যেহেতু আমি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এমপি এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী। সুতরাং আমি সব কাজ করতেই পারি। মামলার বিষয়টা আদালত ফয়সালা করবেন।’

সিপি

ksrm