শখের বশে ছেলেশিশু কিনে পুলিশে ধরা তিন কন্যার বাবা

0

পর পর তিনটি মেয়ে জন্মদানের পর দিদারুল আলমের স্বপ্ন ছিল একটি ছেলেসন্তানের। নিজের ছেলে সন্তান না থাকায় এক লাখ টাকা দিয়ে একটি ছেলেসন্তান কেনার ইচ্ছা পোষণ করলেন তিনি। নিকটাত্মীয় রেহেনা পারভীনের (৪০) মাধ্যমে একটি শিশু কেনার দরদামও ঠিক করা হলো। ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে সাইমন নামের আট মাসের একটি শিশুও কেনা হলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর ধরে রাখতে পারলেন না দিদার। চান্দগাঁও থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে হলো তাকে।

নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বেপারী পাড়ার মোরশেদ কলোনিতে বাস করেন সিএনজি অটোরিকশাচালক ওমর ফারুক। তার আট মাসের শিশু আবদুল্লাহ হোসেন সাইমন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিবেশী আমানুল হক মানিক নামে এক প্রতিবেশী রাজমিস্ত্রী ওমর ফারুকের বাসায় যায়। এ সময় ফারুকের ছেলে সাইমন কান্নাকাটি করছিল। কান্না থামাতে মানিক সাইমনকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যেতে চায়। ছেলের কান্না থামানোর জন্য ওমর ফারুক সায়ও দেয়। ফারুকের স্ত্রীর হাত থেকে মানিক শিশু সায়মনকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। ঘুরতে যাওয়ার পর প্রায় ৩ ঘন্টা পার হওয়ার পর সাইমনকে ফিরিয়ে আনা না হলে ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মানিকের ফোন নম্বর বন্ধ পায় ফারুক। অনেক চেষ্টার পর ছেলের খোঁজ না পেয়ে ফারুক গত ১১ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে।

মামলার পর পুলিশ ফটিকছড়ি উপজেলায় রাতভর অভিযান চালিয়ে রেহেনা পারভীন (৪০) ও দিদারুল আলম (৫৫) নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার ও শিশুটিকে উদ্ধার করে নগরীর চান্দগাঁও থানা পুলিশ।

চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রহিম জানান, ‘মানিকের দূরসম্পর্কের আত্মীয় রেহানা। রেহানার দূরসম্পর্কের আত্মীয় দিদার। তিন মেয়ের বাবা দিদারের শখ ছিল একটি ছেলেসন্তানের। সে বিষয়টি রেহানাকে জানিয়েছিল। রেহানার পরামর্শে মানিক শিশু সায়মনকে কৌশলে নিয়ে তার কাছে তুলে দেয়। রেহানা দেয় দিদারকে। এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। দিদার প্রথম দফায় ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি টাকা আজ (বৃহস্পতিবার) দেওয়ার কথা ছিল।’

দিদার ও রেহানাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মানিক এখনও পলাতক রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু সাইমনকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক, মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) দেবদূত মজুমদারসহ চান্দগাঁও থানার পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে সাইমনকে উদ্ধারে নেতৃত্ব দেওয়া চান্দগাঁও থানার এসআই কাউসার হামিদসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের অর্থ পুরস্কারও দেয়া হয়েছে সিএমপির উত্তর বিভাগের পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বিজয় বসাক বলেন, এই পুরস্কার পুলিশ সদস্যদের আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহ ও উদ্দীপনা জোগাবে।

এসসি/এইচটি/সিপি

Loading...
আরও পড়ুন