চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দেড় মাসে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে দুটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা রুজু হয়েছে ৫৬টি। মাদক, অস্ত্র, ওয়ারেন্টসহ অন্যান্য মামলায় ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল্লাহ বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে মাদক প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে। লোহাগাড়ায় মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা অপরাধীদের কোনো প্রকার বাসা ভাড়া দেওয়া যাবে না। ভাড়াটিয়া মালিকদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সন্ত্রাসী, মাদক কারবারিদের কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবেনা।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, লোহাগাড়া থানা এলাকায় মাদক এবং সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অভিযানে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশের আভিযানিক টিম। পাশাপাশি ২টি দেশীয় তৈরি এলজি বন্দুক উদ্ধার করেছে। অভিযানে ৫৬টি মামলা রুজু হয়েছে লোহাগাড়া থানায়। মাদক, অস্ত্র, ওয়ারেন্টসহ অন্যান্য মামলায় ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুলিশের একাধিক চেকপোস্ট রয়েছে। কোনো না কোনো চেকপোস্টে প্রতিনিয়ত ধরা পড়েছে মাদকসহ কারবারিরা। যেখান থেকে মাদকের উৎপত্তি বা সাপ্লাই হয়, সেখানে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। যুবসমাজ মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে, পাড়ায়-মহল্লায় মদক বিরোধী কমিটি করে প্রতিবাদ করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, সারাদেশে যেভাবে মাদকের ভয়াবহতা বিস্তার লাভ করেছে, তার থেকে আমাদের লোহাগাড়াও রক্ষা পাচ্ছে না। যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদেরকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে আমাদের বিশেষ কিছু করণীয় ও দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিটি মা-বাবাকে সন্তান কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।



