চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে লোকাল বাসে যৌন হেনস্তার অভিযোগে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে সহযাত্রীরা। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মো. জসিম (৩৫) ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার নুরুল মেম্বারের বাড়ির বাসিন্দা। ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নারানখাইয়া এলাকায়।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট থেকে খাগড়াছড়িগামী একটি লোকাল বাসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন ওই ছাত্রী। বাসটি হাটহাজারী এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত জসিম তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাসের অন্যান্য যাত্রী তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেন।
পরে বাসটি ফটিকছড়ি পৌরসভার বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে আগের ঘটনার জেরে জসিম পুনরায় বাসে ওঠেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীর জামা ও চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন। অভিযোগ রয়েছে, যৌন উদ্দেশ্যে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ছাত্রীর চিৎকারে বাসের যাত্রী, চালক ও সহকারী এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাতে আটক জসিমকে হেফাজতে নেয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আজিজুল হক মামুন বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে চলন্ত বাসে এ ধরনের যৌন হয়রানির ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। আমরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। গণপরিবহনে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডিজে




