লিবিয়াফেরত মুফতি ইজহারকে চট্টগ্রামে হঠাৎ সংবর্ধনা, অতিথি চসিকের কাউন্সিলর (ভিডিও)

0

আফ্রিকার দেশ লিবিয়া থেকে ফেরার পর হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরীকে সংবর্ধনা দেওয়া হল চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার এলাকায়। সেই সংবর্ধনার অন্যতম আয়োজক ছিলেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি ও ১৪ নং লালখানবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।

ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সভাপতি মুফতি ইজাহারুল ইসলাম লালখানবাজার জামেয়া মাদ্রাসায় ২০১৩ সালে বিস্ফোরণের ঘটনার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১২টায় তিনি লালখানবাজার পৌঁছলে বাঘঘোনা মোড়ে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি ও ১৪ নং লালখান বাজার ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, জামেয়া মাদ্রাসার সরকারি মুহতামিম মাওলানা জালাল উদ্দিন, সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা মুসা, মাওলানা নুরুল হক ও মুফতি নুরুল হক।

Yakub Group

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার মাওলানা আবু সালেহ বলেন, লিবিয়া সফর থেকে মুফতি ইজহার গতকাল বুধবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীতে অবতরণ করেন। এরপর গাড়ি করে চট্টগ্রাম আসেন। শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ জনসাধারণ মিলে নগরীর লালখানবাজার বাঘঘোনা মোড়ে হুজুরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে স্লোগান দিতে দিতে হুজুরকে মাদ্রাসায় নিয়ে আসা হয়। তিনি মসজিদে এসে কিছু কথা বলেন। এসময় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল হোসেনও কিছু কথাবার্তা বলেন।

তিনি জানান, মুফতি ইজহার মাদ্রাসায় অবস্থান করবেন। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) মাদ্রাসার মসজিদে মুফতি হারুনের মেয়ের আকদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি ও ১৪ নং লালখানবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা তো জনপ্রতিনিধি। দাওয়াত দিলে তো যেতে হবে এলাকায়। না গিয়ে তো পারবো না। ওদের কাছে ভোট চাইতে যখন গেছি আমাদেরকে তো যেতে হবে। সবাই যে অভিযোগটা করতেছে। উনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ। এটা তো আর আমার পক্ষে সমাধান দেওয়া সম্ভব না। এটা তো রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিষয়। যেহেতু মাদ্রাসাটা উনি এগ্রিস্ট করতেছে। আর উনি অভিযুক্ত হয়ে দেশের বাইরে থেকেও ঘুরে আসছেন। আমাদের কথা হচ্ছে যে, আমরা যদি মাদ্রাসার যে অবস্থা। এটা এখন সরকার চাচ্ছে যে একটা আস্থার জায়গা তৈরি করে এসব জায়গা থেকে ফিরে আনার জন্য। এখানে যে বাচ্চারা পড়ালেখা করে।’

তিনি বলেন, ‘এখন মনে করেন যে আজকে আমি যে সংবর্ধনায় গেলাম। আমি ওখানে গিয়ে বক্তব্য রাখলাম বক্তব্য রেখে বললাম যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কওমি সনদের অনুমোদন দিছেন। কিংবা ৫৬০ টা মডেল মসজিদ নির্মাণ করতেছেন। ইসলামের অগ্রযাত্রার জন্য যতো কাজ সরকার করছে। বিগত সময়ে কোন সরকার এমন কাজ করতে পারে নাই। আমরা বক্তব্য রাখলাম যে, আপনারা যদি ইসলামের দ্বীনকে এগিয়ে নিতে চান বা এগুলো বাস্তবায়ন করতে চান তাহলে তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিকল্প নাই। এই যে আমরা যদি মাদ্রাসার প্রোগ্রামগুলোতে না যাই তাহলে ছাত্রদেরকে বক্তব্যগুলো দেবে কে? আমরা বললাম যে প্রচলিত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আপনাদের প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। আপনি আরবি পড়বেন, শুধু আরবি পড়ে তো চাকরি হবে না। আর দেশে এতোগুলো মসজিদ নাই যে আপনারা সবাই মসজিদে ইমামতি করবেন। তাহলে আপনারা কী করবেন? আপনাদের চাকরি করতে হলে, আপনাদের প্রচলিত শিক্ষা অর্জন করে চাকরি করতে হবে। দেখেন আপনি যদি তাদের এমন পজিটিভ বক্তব্যগুলো না দেন তাহলে তো আরও জঙ্গির জন্ম হবে।’

২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর মুফতি ইজাহারের পরিচালনাধীন নগরের লালখানবাজার মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন নিহত হন। ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আইপিএসের চার্জার থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে দাবি করলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারটি তাজা হাতবোমা উদ্ধার করে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে আসামিরা নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিস্ফোরকদ্রব্যগুলো মজুত করে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইন ও হত্যার অভিযোগে খুলশী থানায় তিনটি মামলা করে পুলিশ।

মামলা তদন্তের পর ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী ও তার ছেলে হারুন ইজাহারসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। আসামিদের মধ্যে মুফতি ইজাহার ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন আবদুল হাই ওরফে সালমান, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ ইছহাক, মনির হোসেন, আবদুল মান্নান, তফসির আহমেদ ও মোহাম্মদ জুনায়েদ। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩ ও ৪ ধারায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগপত্রে ৪৬ জন সাক্ষী রাখা হয়েছে।

আরএস/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm