আক্রান্ত
২০৮৬০
সুস্থ
১৬২৯১
মৃত্যু
৩০১

লাখো জনতাকে কাঁদিয়ে প্রিয় মসজিদের পাশে আল্লামা শফী চিরঘুমে শায়িত

0

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও দেশের শীর্ষ কওমী আলেম আল্লামা আহমদ শফীর নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসূফ।

জানাজা শেষে হাটহাজারী মাদ্রাসাস্থ প্রিয় মসজিদের পাশে চিরঘুমে শায়িত করা হয়েছে দেশের শীর্ষ এই আলেমকে।

এর আগে বর্ষীয়ান এই আলেমকে শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষের ঢল নামে চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা অভিমুখে। শনিবার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন লাখো ভক্ত-অনুসারীরা। জনতার ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। তাই জানাজায় যোগ দিতে আসা জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হাটহাজারী বাস স্টেশন থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জানাজা উপলক্ষে এলাকাজুড়ে বাড়ানো হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয় হাটহাজারী, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে। এছাড়াও ৪ উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন ৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট।

এই কবরে চিরশায়িত আল্লামা শাহ আহমদ শফী
এই কবরে চিরশায়িত আল্লামা শাহ আহমদ শফী

এর আগে শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে আল্লামা শফীর মরদেহ পৌঁছায় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হাটহাজারী মাদ্রাসায়। এরপর তার লাশ জনসাধারণের দেখার জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেখানে সমাগতদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন হেফাজত ইসলামে বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েত বাবু নগরী। তিনি বলেন, মরহুম আহমদ শফি আমাদের ওস্তাদ। তাঁর মৃত্যুতে আমরা এতিম হয়েছি। তিনি বিশ্ববিখ্যাত আলেম ছিলেন। তিনি পুরো বিশ্বের ইসলামী চিন্তাবিদ। এতো বড় একজন ওস্তাদুল ওলামাকে হারিয়ে আমরা আজ অসহায়। তিনি শুধু পরিবারের মুরুব্বি ছিলেন তাই নয়, তিনি আমাদের সকলের মুরুব্বি ছিলেন। উনার তরিকা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবো।

মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফি এরং তার পরিবারের জন্য দোয়া চেয়ে বাবুনগরী আরও বলেন, তাঁর মৃত্যুতে ক্ষতি হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, এই ক্ষতি পূরণ হবে না? আমি উত্তর দিয়েছি, এই ক্ষতি ১০০% পূরণ হয়ে যাবে। আমরা যদি উনার তরিকা অনুযায়ী চলি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুণ। তাঁর পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণ করার তৌফিক দিন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম পদ থেকে পদত্যাগ করার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে আল্লামা শফীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌছেন তিনি। এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এমএহক

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm