লাইফ সাপোর্টে চমেক ছাত্রলীগ নেতা আকিব, সকালে বসবে মেডিকেল বোর্ড

0

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আকিব হোসেন নামে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

আকিব হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কুমিল্লায়।

এর আগে মস্তিষ্কে রক্ত জমে যাওয়ায় শনিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে আকিবের মস্তিষ্কে অপারেশন করা হয়। তবে অপারেশনের পরও আশঙ্কামুক্ত না হওয়ায় তাকে আইসিইউ ওয়ার্ডে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

আকিবের চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রোববার (৩১ অক্টোবর) মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে বলে চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানিয়েছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান।

লাইফ সাপোর্টে চমেক ছাত্রলীগ নেতা আকিব, সকালে বসবে মেডিকেল বোর্ড 1

চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে তিনি বলেন, আকিবের ব্রেনে অপারেশন করতে হয়েছে। ওর ব্রেনে রক্ত জমে গিয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়। ওই রক্তগুলো সরানো হয়েছে। সরানোর পরেও সে আউট অব ডেঞ্জার না। এজন্য তাকে আপাতত ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে। রোববার সকালে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। এর পর বোর্ড বসে তার চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে শনিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে চমেক হাসপাতালে হওয়া আকিবের অপারেশনের সময় অপারেশন থিয়েটারে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের অধ্যাপক ও নিউরো সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ হোসেন। তিনি ছাড়াও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. নোমান খালেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এই অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।

জানা গেছে শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত দুই দফায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষ হয়। শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২ টার দিকে শিক্ষা উপমন্ত্রীর অনুসারীরা আজম নাছির উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে ওই হামলায় দুজন ছাত্রলীগ নেতা আহত হন। তারা হলেন চমেকের ৬১ ব্যাচের মাহফুজুল হক (২৩) এবং ৬২ ব্যাচের নাইমুল ইসলাম (২০)। রাতের ঘটনায় আহত দুজনই আজম নাছির উদ্দিনের অনুসারী।

রাতের ঘটনার জের ধরে শনিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯ টায় শিক্ষা উপমন্ত্রীর অনুসারীদের একজন আকিব হোসেনকে (২০) একা পেয়ে বেধড়ক পেটায় আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারীরা।

এর পরপরই শিক্ষা উপমন্ত্রীর অনুসারীদের ধাওয়া খেয়ে চমেক প্রিন্সিপালের রুমে ঢুকে পড়ে আজম নাছির উদ্দিনের অনুসারীরা। দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানেই অবরুদ্ধ ছিল তারা। পরে পুলিশ পাহারায় সেখান থেকে বের হয়ে আসে নাছির উদ্দিনের অনুসারীরা।

পরে এই হামলার ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য চমেক বন্ধ ঘোষণা করে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল। সন্ধ্যার মধ্যেই সকল শিক্ষার্থীকে হল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

এআরটি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm