লর্ডসে যাচ্ছে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ড

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনায়াস জয়ে ২৭ বছর পর ফাইনালে ইংল্যান্ড

0

লর্ডসের টিকেট আগের দিন পেয়ে গিয়েছিল গতবারের রানার্স আপ নিউজিল্যান্ড। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দেখার বিষয় ছিল তাদের সঙ্গী কে হচ্ছে সেটি। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়ে অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে যাবে নাকি ২৭ বছর পর ইংল্যান্ড ইতিহাস রচনা কবে। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলো না, উল্টো অস্ট্রেলিয়াকে সেমিফাইনালে প্রথম হারের অভিজ্ঞতা দিল ইংল্যান্ড।

অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে বলতে গেলে ছেলেখেলা করেছে ইংল্যান্ড। স্কোর কার্ডে লেখা থাকবে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটের বড় জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছে, কিন্তু সেটি কতোটা দাপটের সাথে তা লেখা থাকবে না। অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের যখন ফাইনালে উঠে এলো ইংল্যান্ড তখনো ম্যাচের ১০৭ বল বাকি! সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কষ্টকর ২২৩ রান ইংল্যান্ড টপকে গেলো আয়েশি ও দাপুটে ভঙ্গিতে, হেসে-খেলে।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর ইংল্যান্ড আরেকবার বিশ্বকাপের ফাইনালে নাম লেখালো। ১৪ জুলাই লর্ডসে যে ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। দু’দলের কেউ এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে জেতেনি। সেই হিসেব বদলে যাচ্ছে ১৪ জুলাই। এর আগে চারবার বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছে ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড খেলেছে একবার। কিন্তু কোনবারই চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি এই দু’দলের কেউ। সেই হিসেবও বদলে যাচ্ছে এবার। বিশ্বকাপ ক্রিকেট এবার নতুন চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে।

ডুবন্ত অস্ট্রেলিয়াকে টেনে পাড়ে নিয়ে এসেছিলেন স্টিভেন স্মিথ। কিন্তু লর্ডসের টিকেটের জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না।

এজবাস্টনের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মামুলি ২২৩ রানের তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জ্যাসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোর মারকুটো ব্যাটিংয়েই মুলত এই ম্যাচের সমাধান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। ওপেনিং জুটিতে তারা তুলে ১২৪ রান। তাও আবার মাত্র ১৭.২ ওভারে। ৪৩ বলে ৩৪ রান করে বেয়ারস্টো আউট হন। অন্যপ্রান্তে জ্যাসন রয়ের ব্যাটে তখন ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের সুর। মাত্র ৬৫ বলে ৮৫ রানে হাসলো তার ব্যাট। ৯ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় সাজানো জ্যাসন রয়ের এই ব্যাটিংই অস্ট্রেলিয়ার বোলিং বিভাগকে উড়িয়ে দিলো।
উইকেট পড়ছে না দেখে পার্টটাইম স্পিনার স্টিভেন স্মিথকে আক্রমণে আনেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারেন ফিঞ্চ। দারুণ ফর্মে থাকা জ্যাসন রয় স্টিফেন স্মিথের সেই ওভারে টানা তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকান। সেই ওভারে স্মিথ খরচা গুনেন ২১ রান!

যেভাবে খেলছিলেন জ্যাসন রয় তাতে নিজের অভিষেক বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌছে গিয়েছিলেন। কিন্তু আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা সেটা হতে দিলেন কই? চরম ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে ধর্মসেনা তাকে আউট ঘোষণা করলেন। বল তার ব্যাটেই লাগেনি। অথচ ধর্মসেনা জানালেন তিনি ক্যাচ আউট। ইংল্যান্ডের রিভিউ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই রিভিউ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আম্পায়ারকে শাপ-শাপান্ত করতে করতে মাঠ ছাড়লেন জ্যাসন রয়, সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৫ রান দূরত্বে তখন তিনি। ২০ ওভারে ১৪৭ রানে ২ উইকেট হারানো ইংল্যান্ডকে বাকি পথ পাড়ি দিয়ে জয়ের পথ দেখান অধিনায়ক ইয়ূন মরগান ও জো রুট।

অস্ট্রেলিয়ার মূল হন্তারকের ভূমিকায় ছিলেন ইংল্যান্ড পেসার ক্রিস উকস। অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটসম্যানের উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচ সেরা।

সকালে টস জয়ী অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের কোমরটা ভেঙ্গে যায় পাওয়ার প্লে’তেই। ১৪ রানে শুরুর ৩ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার সেই যে ধুঁকে চলা শুরু, ব্যাস ব্যাটিংয়ের কোমরটা সোজা হলো না! অ্যালেক্স ক্যারি চোট নিয়েও লড়ে গেলেন। এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের ৪৬ এবং স্টিভেন স্মিথের ৮৫ রান ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বাকি সবাই ব্যর্থ ব্যাটসম্যান।

২২৩ রান নিয়ে ইংল্যান্ডের মতো অসাধারণ ব্যাটিংয়ের দলকে আটকানো যায় না। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে প্রথমবারের মতো বিদায় নিয়ে এখন সেই দুঃখেই কাতর অস্ট্রেলিয়া। অথচ পরিসংখ্যান জানাচ্ছে-অস্ট্রেলিয়া তাদের আগের ছয়টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে কখনো হারেনি। সেমিফাইনাল জয়ের সেই রেকর্ড আর তাদের অটুট রইলো না। এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ইংল্যান্ড হট ফেভারিট। সেই মর্যাদা নিয়েই ১৪ জুলাইয়ের ফাইনালে উঠে এলো স্বাগতিকরা।

ইটস্ কামিং হোম-গানটা বার্মিংহ্যামের এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ছাপিয়ে এখন পুরো ইংল্যান্ড জুড়েই শোনা যাচ্ছে!

শেষবার অস্ট্রেলিয়া-ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলয় ভেঙে নতুন দল হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিল শ্রীলঙ্কা, সেই ১৯৯৬ আসরে। আর বিশ্বকাপের ফাইনালে শিরোপা না জেতা দুদলের লড়াই শেষ দেখা গিয়েছিল ২৭ বছর আগে, ১৯৯২ সালে। সেবারও ফাইনালিস্ট ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু তাদের কাঁদিয়ে কাপ নিয়ে যায় পাকিস্তান।

তবে ২৭ বছরের সেই দলের সঙ্গে বর্তমান দলটার যে আকাশ-পাতাল ফারাক সেটা শেষ চার বছর ধরেই বুঝিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। এই সময়ে প্রতিটা ম্যাচেই দলটি বুঝিয়ে গেছে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য তৈরি তারা। এই প্রক্রিয়ার শেষ ভাগের একধাপ আগে ইংলিশদের সামনে পড়ে কপালটাই জ্বলে গেল অস্ট্রেলিয়ার!

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস : অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া : ২২৩/১০, ৪৯ ওভার (স্টিভেন স্মিথ ৮৫, অ্যালেক্স ক্যারে ৪৬, স্টার্ক ২৯, ম্যাক্সওয়েল ২২, ওয়ার্নার ৯; ক্রিস ওকস ৩/২০, আদিল রশিদ ৩/৫৪, আরচার ২/৩২, মার্ক উড ১/৪৫)।
ইংল্যান্ড : ২২৬/২, ৩২.১ ওভার (জেসন রয় ৮৫, জো রুট ৪৯*, মরগ্যান ৪৫*, বেয়ারেস্ট ৩৪; মিচেল স্টার্ক ১/৭০, কামিন্স ১/৩৪)
ফল : ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : ক্রিস ওকস (ইংল্যান্ড)

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন