র‌্যাম্প মডেলিং থেকে চট্টগ্রামে প্রথম ‘মিস ফটোজেনিক’ তিশা

0

রেজাউল করিম :
খুব ছোটবেলা থেকেই সবার কাছে নিজের সৌন্দর্য্যরে কথা শুনেই আসছিলেন তিনি। কিন্তু এই সৌন্দর্য্যকে ঘিরে তার কৈশোর পেরুনো সময়টা এতোটা আলো ঝলমলে আনন্দমুখর হয়ে উঠবে ততোটা চিন্তাই করেননি তিশা।

tisha-001

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের র‌্যাম্প মডেলদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত একটি নাম তিশা। নিয়ন আলোর বন্যায় মিউজিকের তালে র‌্যাম্পে হেঁটে গেলেই দর্শকদের উচ্ছাসিত কড়তালিতে মুখর হয়ে উঠে হলরুম, বলরুম। তিনি সানজিদা সিদ্দিকা তিশা। সদ্য কৈশোর পেরিয়েছেন। তারুণ্যে ঝলমলে এই উজ্জল সময়ে একজন র‌্যাম্প মডেল থেকে অর্জন করেছেন চট্টগ্রামের প্রথম ‘মিস ফটোজেনিক’ খেতাব।

 

বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে তিশাকে এখন সবাই চিনেন মিস ফাটোজেনিক হিসেবেই। সম্প্রতি চট্টগ্রামের ব্র্যান্ড ফিটনেস সেন্টার হ্যামার স্ট্রেংথ আয়োজিত মিস্টার এন্ড মিস হ্যামার স্ট্রেংথ প্রতিযোগিতায় প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিযোগিকে পেছনে ফেলে তিশা মিস ফটোজিনক-২০১৬ খেতাব অর্জন করেন।

 
সানজিদা সিদ্দিকা তিশা’র র‌্যাম্প মডেল হিসেবে যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে ডিসেম্বরে। অনেকটা হুট করেই ডাক পান চট্টগ্রামের বিখ্যাত ওয়েল ফুড সেন্টারের একটি বর্ণিল ফ্যাশন কিউতে। প্রথম ফ্যাশন কিউতেই অংশ নিয়েই তিনি সবার নজরে আসেন। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিশা অংশ নিয়েছেন দৈনিক প্রথম আলো আয়োজিত বড় ফ্যাশন কিউতেও।

tisha-005

মুলত এর পর থেকে একজন র‌্যাম্প মডেল হিসেবে তার এগিয়ে যাওয়া। সর্বশেষ তিশা অংশ নেন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত মিস্টার এন্ড মিস হ্যামার স্ট্রেংথ প্রতিযোগিতায়। সারা দেশব্যাপী আলোচিত এই প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন মডেল অভিনেত্রী শারমিন লাকি, পারিহা লিমাসহ দেশ বরেণ্য মিডিয়া ব্যাক্তিত্বরা। জমকালো আয়োজনের এই প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্বে র‌্যাম্পে হেঁটেই ঝড় তুলেন তিশা।

 

বিচারকদের প্রশ্নের মুখোমুখিও হতে হয় তাকে। বিচারকদের চুড়ান্ত রায়ে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিযোগিকে পেছনে ফেলে মিস ফটোজিনক-২০১৬ হিসেবে খেতাব জিতে নেন সানজিতা সিদ্দিকা তিশা।

 

এই প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাতকারে তিশা জানান, আমি হুট করেই অনেকটা মডেলিং-এর সাথে যুক্ত হয়েছি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে র‌্যাম্প মডেল হিসেব ৪০টির ও বেশি ফ্যাশন কিউতে অংশ নিয়েছি। সর্বশেষ চলতি মাসেই মিস ফটোজেনিক খেতাব জিতে নেওয়া আমার জীবনের সেরা অর্জন। স্কুল জীবন থেকে খেলাধুলায় পারদর্শী তিশা একজন নৃত্য শিল্পিও। চর্চা করেন আবৃত্তি। দক্ষতা রয়েছে অভিনয়েও। তার পিতা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান পেশায় চিকিৎসক এবং মা শাহিনা রহমান গৃহীনি। দুই বোনের মধ্যে বড় তিশা বর্তমানে চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ-৬ষ্ট সেমিস্টারে পড়ছেন।

 

আলাপকালে তিশা আরও জানান, মুলত মা শাহিনা রহমানের উৎসাহে এবং পুরো পরিবারের সাপোর্ট থাকায় তিনি ফ্যাশন মডেলিং জগতে সাচ্ছন্দে কাজ করতে পারছেন। আগামীতে দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করার ইচ্ছে প্রকাশ করে তিশা বলেন মিস হ্যামার স্ট্রেংথ আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ফটোজেনিক খেতাব অর্জনের পর চট্টগ্রাম শহরে মিস ফটোজেনিক হিসেবেই সবাই আমাকে আখ্যায়িত করছে।

 

বিষয়টা আমি দারুনভাবে উপভোগ করছি। এজন্য আমি হ্যামার স্ট্রেংথ-এর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আমার এই অর্জনকে সামনে রেখে আগামী দিনে আমি বহুদুর এগিয়ে যেতে চাই। একজন পরিপূর্ণ সফল মডেল হিসেবে দেশের মডেলিং জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাই।

 

তিশা বলেন, আমি সুযোগ পেলে র‌্যাম্প মডেলিং-এর পাশাপাশি টেলিভিশন কমার্শিয়াল এবং বিভিন্ন প্রোডাক্টের মডেল হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। এ জন্য তিনি সবার দোয়া প্রত্যাশা করেন।

 

এ এস / জি এম এম / আর এস পি :::

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm