পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চট্টগ্রামে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের রিপসা কমিটি আয়োজিত দিনব্যাপী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়েছিলেন রোটারি পরিবারের সদস্যরা। গত ১৪ এপ্রিল নগরীর ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে গান, নৃত্য ও নানা আয়োজনে ফুটে ওঠে বাঙালিয়ানার আবহ।
বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান রোটারিয়ান পিপি মিনহাজ উদ্দিন নাহিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রিপসা কো-অর্ডিনেটর রোটা: পিপি আজিজুল হক, রোটা: পিপি মনিরুজ্জামান, রোটা: সিপি আবু তৈয়ব, রোটা: পিপি এমদাদুল আজিজ, ডিপুটি কো-অর্ডিনেটর ও নববর্ষ উদযাপন কমিটির কো-অর্ডিনেটর রোটা: সিপি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নান্টু, ডিপুটি কো-অর্ডিনেটর রিপসা রোটা: সিপি ইব্রাহিম হাসান এবং মেম্বার সেক্রেটারি রোটা: পিপি ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিপুটি কো-অর্ডিনেটর সিপি মো. আরশাদ চৌধুরী, রোটা: পিপি অ্যাডভোকেট সওকত আউয়াল চৌধুরী, রোটা: অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর পিপি এস এম জমির উদ্দিন, পিপি উত্তম কুমার ব্যানার্জি, রোটা: অ্যাডভোকেট সাহাদাত হোসেন, রোটা: সিপি মো. নাঈম উদ্দিন, রেজিস্ট্রেশন চেয়ারম্যান রোটা: কাজী হাসানুজ্জামান সান্টু এবং রেজিস্ট্রেশন কো-চেয়ার রোটা: আসরাফু আলম।
প্রেসিডেন্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রোটা: সৈয়দা কামরুন নাহার, রোটা: তাহিয়া কবির, রোটা: আফিয়া খাতুন মীরা, রোটা: রোকসানা ফারুক, রোটা: সাবিনা কাইয়ুম, রোটা: রওশন আক্তার, রোটা: কাজী হাসানুজ্জামান সান্টু, রোটা: মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, রোটা: আনারুল কবির চৌধুরী, রোটা: আনিসুর রহমান, রোটা: খন্দকার মো. এমদাদুর রহমান, রোটা: এম এ মতিন, রোটা: শহিদুল ইসলাম, রোটা: আবু বকর সিদ্দিক, রোটা: আশরাফুল আলম, রোটা: আব্দুল্লাহ মিলন, রোটা: শ্যামল কান্তি মজুমদার ও রোটা: মো. আলী মিয়া।
অনুষ্ঠানে ২৯টি রোটারি ক্লাবের সিনিয়র রোটারিয়ান, প্রেসিডেন্ট এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। শুরুতে চট্টগ্রামের শিল্পীদের পরিবেশনায় উদ্বোধনী নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় নাচ, গান, আবৃত্তি, বাঙালি ফ্যাশন শো এবং রোটারি পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে রোটারিয়ানদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের শিশু-কিশোরদের জন্য গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার ব্যবস্থাও রাখা হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নানা ধরনের দেশীয় খাবারের আয়োজন ছিল, যার মধ্যে পাটিসাপটা পিঠা, সিংগারা, তরমুজ, ফল, তেঁতুলের চা-কফি, পান্তা-ইলিশ ও বিভিন্ন ভর্তা দিয়ে মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেলে জিলাপি, চটপটি ও চা-কফি পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল, সর্বজনীন এবং প্রাণের উৎসব। এটি শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং বাঙালির আত্মপরিচয়, হাজার বছরের সংস্কৃতি এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক হওয়ার এক অনন্য মিলনমেলা। তাঁরা আরও বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে উৎসবের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আড়ম্বর কমিয়ে ছোট পরিসরে অর্থবহ ও আত্মিক সংযোগের মাধ্যমে উদ্যাপনই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে, যা রোটারি পরিবারের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।




