s alam cement
আক্রান্ত
৫১০১৯
সুস্থ
৩৭০৬২
মৃত্যু
৫৫৫

‘রেলে বিল বাণিজ্য’, কর্মচারী রেজা হায়াতের ইশারায় মিলে রেলের ঠিকাদারদের বিল-ভাগ্য

0

বরাদ্দ আসে ঠিকই। কিন্তু সে বরাদ্দ অনুযায়ী হয় না ঠিকাদারদের বিল। তাই কাজ করে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় তাদের। আবার এক খাতের বিল চলে যাচ্ছে অন্যখাতে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারের বিল আবার হয়ে যাচ্ছে নিমিষেই।

বলছিলাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল (সিসিএম) অফিসের কথা।

এই অফিসের এক উচ্চমান সহকারীর দাপটে বিল নিয়ে চলছে এমন নয়ছয়। তার ‘কেরামতি’তে এক খাতের বরাদ্দ চলে যায় অন্যখাতে। এখন তার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ঠিকাদাররা। যার দাপটে এই অবস্থা সেই উচ্চমান সহকারীর নাম রেজা হায়াত। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সিসিএম অফিসের একপ্রকার হর্তাকর্তাই তিনি।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, একই পদে ১০ বছর ‘রাজত্ব’ করা রেজা হায়াতের নেশা কমিশন! এই নেশায় বুদ হয়ে থাকা এই কর্মচারীর কথাই নাকি এই অফিসে শেষ কথা! অবাক করা বিষয় হল, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তার ইচ্ছাতেই বরাদ্দ ঢেলে সাজায় বিভিন্ন খাতে।

অভিযোগ রয়েছে, রেজা হায়াতের ইশারা মিললেই তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের কপালে জোটে বিল। আর বাকিদের বিল-ভাগ্যের চাকা থাকে থমকে।

রেলওয়ের সিসিএম অফিস সূত্র জানায়, আইবাস সিস্টেম কোড ২৮০১ খাতে সাধারণ প্রশাসনের অনুকূলে রিভার্স বাজেটে মেরামত খাতসহ বিভিন্ন খাতে চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের (পূর্ব) অনূকূলে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়। গত মার্চ মাসেই বরাদ্দ আসে আড়াই কোটি টাকা।

Din Mohammed Convention Hall

এই দফতরের মাধ্যমে বিভাগীয় বাণিজ্যিক দফতর ঢাকা ও চট্টগ্রাম খাতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন না করে উচ্চমান সহকারী রেজা হায়াত আটকে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, বরাদ্দের পরিবর্তে রেজা হায়াত তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে বলেন ঠিকাদারদের। নিজের কমিশন নিশ্চিত করার পর বরাদ্দ প্রক্রিয়া চালুর অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।

ঠিকাদারদের দাবি, আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ এলেও তা দফতরগুলোতে পোস্টিং না দিয়ে আটকে রেখে কমিশন আদায় করছে এ উচ্চমান সহকারী রেজা হায়াত।

দায়িত্বে থাকা রেজা হায়াতের কাছে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে জানতে চাইলে তিনি চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি এসব জানিনা। ঢাকা হিসাব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি শুভ’র কাছ থেকে জেনে নিন।’ কমিশন আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা শুভ বলেন, ‘কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা রেজা হায়াতই বলবেন।’ কম্পিউটার মেরামত খাতে কত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে শুভ বলেন, ‘কম্পিউটার মেরামত খাতে কোনো বরাদ্দ দেয়নি।’

অথচ নথি অনুযায়ী ২০২০-২১ অর্থ বছরে অফিস কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের সত্যতা মিলেছে।

ঠিকাদারদের প্রশ্ন, বরাদ্দের বিষয়ে কেন রেজা হায়াত কোনো তথ্য দেন না? বরাদ্দ দেওয়ার পরও কম্পিউটার মেরামত খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে প্রচার চালানোর নেপথ্যে কি তা তদন্ত হওয়া উচিত। এ দুই জনের যোগসাজশেই কি সিসিএম অফিসে ঠিকাদারদের বিলের বরাদ্দ নিয়ে নয়ছয় চলছে?

জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মেরামত খাতে বাজেট না থাকায় বহু ক্ষুদ্র ঠিকাদার কাজ শেষ করেও বিল নিতে পারেননি। রেলওয়ে বাণিজ্যিক বিভাগ ঢাকা ও চট্টগ্রামে চিঠি দিয়ে ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট থেকে যতটা সম্ভব ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বকেয়া নির্বাহ করার জন্য অনুরোধ করে।

চট্টগ্রাম প্রতিদিনের হাতে আসা একটি বরাদ্দ তালিকায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে অফিস আসবাব মেরামত বাবদ ২৪ লাখ, কম্পিউটার মেরামত খাত ৭লাখ ৫০ হাজার, অফিস সরঞ্জামাদী বাবদ ১৫ লাখ, আসবাবপত্র বাবদ ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ আসার প্রমাণ মিলে। এছাড়া ৩২৫৫১০৫ কোড বাবদ বরাদ্দ আসে ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ।

সিসিএম দফতর ওই খাত থেকে ২৬ লাখ টাকা আইন বহির্ভূতভাবে কেটে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, এক পদে ১০ বছর থাকা রেজা হায়াত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অলিখিত পার্টনারশীপে ব্যবসা করেন রেলপাড়ায়।

রেলওয়ের ঠিকাদার মহসিন অভিযোগ করেন, ‘চট্টগ্রামে রেলওয়ের দুই মাফিয়ার একজনকে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলে বদলী করা হলেও দ্বিতীয় মাফিয়া রেজা হায়াত এক পদেই আছেন ১০ বছর। বলা চলে সিসিএম দফতরে তার কথা শুনেই কাজ করতে হয় কর্মকর্তাদের।’

এ ব্যাপারে জানতে চিফ কমাশিয়াল ম্যানেজার নাজমুল ইসলামকে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়গুলো আমার জানা ছিল না। যেহেতু আমাকে জানিয়েছেন বিষয়টি আমি কালই দেখবো।’

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার সুইপিংয়ের কাজ সিসিএম দফতর থেকে রেজা হায়াতের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে একটি সিন্ডিকেট। এই কাজগুলো ভাগিয়ে নিতে এই সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে কয়েকদিন ধরে।

এমএফও

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm