রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলে ২ মাসে হাজার কোটি টাকার ভূমি উদ্ধার

0

রেলওয়ের হাজার কোটি টাকার ভূমি বিভিন্ন দখলদারের অধীনে থাকা ভূমি উদ্ধারে রেলওয়ে মাঝেমাঝে উদ্যোগ নিলেও তা বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও নানা চাপের কারণে থেমে যায়। অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে হামলায় বাধার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী দলের উপর আক্রমণে ক্রেনচালকসহ অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে। তবে সম্প্রতি রেলওয়ের কঠোর অবস্থানে বিগত দুইমাস ধরে উচ্ছেদ অভিযানে গতি এসেছে।গত দুইমাসে উদ্ধার হয়েছে হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুগ যুগ ধরে রেলওয়ের হাজার কোটি টাকার জায়গা বিভিন্ন ব্যক্তি ও শ্রমিক সংগঠন অবৈধ দখল করে দোকান, ঘরসহ নানা স্থাপনা তৈরি ও ভোগ দখল করে কোটি টাকা আয় করছে। রেলওয়ে বিভিন্ন সময় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেও নানা চাপের কারণে মাঝপথে রহস্যজনকভাবে থেমে যায়। ফলে দখলদারেরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নগরের পাহাড়তলী, আমবাগান, সেগুনবাগান, সিআরবি এলাকায় হাজার কোটি টাকার ভূমি দখলদারেরা দখল করে ভোগ করে আসছে। রেলওয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও নানা পক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের চাপে থেমে যায়।

প্রসংগত, গত ২ নভেম্বর খূলশী থানার ঝাউতলা মাস্টারলেন এলাকায় রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানের মাইকিং চলাকালে অটোরিকশা সিএনজি অটোরিকশার উপর আক্রমণ করে উচ্ছেদ বিরোধীরা। ৬ নভেম্বর আমবাগানে উচ্ছেদ অভিযানের সময় হামলা করে দখলদারো। ৭ নভেম্বর আমবাগানের রেলওয়ে বস্তি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের সময় হঠাৎ আক্রমণ করে ক্রেনচালকসহ তিনজনকে আহত করে। সর্বশেষ ৩০ নভেম্বর মতিঝর্ণা এলাকায় উচ্ছেদ মতিঝর্ণা অবৈধ উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে উচ্ছেদ বিরোধীরা সংবাদ সম্মেলন করে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান। তারা দাবি করেন, যুগ যুগ ধরে বাস করে আসা এসব স্থাপনা রেলওয়ে উচ্ছেদ করতে পারেনা। তারপরেও রেলওয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মোট ভূমির পরিমাণ (৭ হাজার ৭শত ১একর)। এরমধ্যে সরকারি বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি দখলে রয়েছে ২১৫.১৮ একর ভূমি। গত দুইমাসে (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায়) উদ্ধার করা ভূমির পরিমাণ ৪৩.১৩৩৮ একর যার বাজারমূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। বাকী ভূমি উদ্ধারে রেলওয়ে অভিযান পরিচালনা করবে। তবে অতীতের মত কোন চাপের মুখে উচ্ছেদ অভিযান থেমে গেলে রেলওয়ের হাজার কোটি টাকার সম্পদ বেদখল রয়ে যাবে।

৩ অক্টোবর ফ্রান্সিস রোড থেকে সিআরবি রাস্তার মোড় ও গ্রামীণ রেস্টহাউস সংলগ্ন এলাকায় ৩৮০ জন দখলদারের অধীনে থাকা ৩২ টি সেমিপাকাঘর ও ১৫৭ টি টিনশেড ঘর উচ্ছেদ করে ২.৫৩ একর ভূমি উদ্ধার করে। ৯ অক্টোবর সেগুনবাগান রেলওয়ে কলোনি এলাকায় ৮ জন দখলদারের অধীনে থাকা ৩০ টি সেমিপাকা ঘর উচ্ছেদ করে ০.২৬ একর ভূমি উদ্ধার করে। ১৩ অক্টোবর ষোলশহর রেল স্টেশনের দুপাশে ৮ জন দখলদারের অধীনে ৪টি টিনশেড দোকান উচ্ছেদ করে ৬০০ বর্গফুট ভূমি উদ্ধার করে। ১৫ অক্টোরব মিরসসরাই লেভেলক্রসিং গেউট সংলগ্ন এলাকায় ২১৩ জন দখলদারের অধীনে থাকা ১৫৮ টি দোকান উচ্ছেদ করে ০.৪৮ একর ভূমি উদ্ধার করে। ১৬,১৭ অক্টোবর কদমতলী রয়েলভিউ এভিনিউ কলোনি ও আশপাশ এলাকায় ৩৯২০ জন দখলদারের অধীনে ৩৯২০ জনের অধীনে থাকা ১৬৮৯ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৫.০৫ একর ভূমি উদ্ধার করে ২৮ অক্টোবর হালিশহর রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমির অভ্যন্তরে ও বাইরে ৪৩ জন দখলদারের অধীনে থাকা ৪২ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৩.৫০ একর ভূমি উদ্ধার করেন। ৩০ অক্টোবর সিআরবি এলাকার গ্রামীণ রেস্ট হাউস, টিলায় ৪৩৮ জন দখলদারের অধীনে থাকা ৪০৭ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৩.৫৯ একর ভূমি উদ্ধার করেন। ৬,৭ নভেম্বর রেলওয়ে কলোনি এলাকায় ৪৭৮৬ জন দখলদারের অধীনে থাকা ২২৫০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৯.৭৮ একর ভূমি উদ্ধার করেন।

১১,১২ নভেম্বর সিআরবি জিএম বাংলো এলাকায় ৫৫৫ জন দখলদারের অধীনে থাকা ৩৬৫ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে ১.৯০ একরভূমি উদ্ধার করে।

বিভাগীয় ভূ-কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুববউল করিম বলেন, ‘রেলের অবৈধ ভূমি উদ্ধার উচ্ছেদ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিগত ২ মাসে প্রায় হাজার কোটি টাকার রেলের সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছে। আগামীতেও উচ্ছেদ অভিযান চলবে। অভিযানে কোন ধরণের চাপ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেরকম কোন চাপ নেই।’
রেলওয়ে পুর্বাঞ্চল বিভাগের জিএম মো. নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রেলেওয়ের উচ্ছেদ অভিযান চলছে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। রেলের সম্পত্তি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে।’

সিএম/এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন