রিংরোড ধসে মেয়াদ বাড়ছে সিডিএর তদন্ত কমিটির

প্রায় ২৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পতেঙ্গায় শহর রক্ষা বাঁধ কাম আউটার রিং রোডের ওয়াকওয়ে ধসে পড়ার ঘটনায় তিন সদস্যেও গঠিত তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরো বাড়ানো হচ্ছে। মঙ্গলবার সাত কার্যদিবস শেষ হওয়ার পরও ধসে পড়ার কারণ নির্ণয় করতে না পারায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের কাছে সময়ের আবেদন করেছে কমিটি। তবে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে বুধবার (২৪ জুলাই)। তদন্ত কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে ১৬ জুলাই রিং রোডের ওয়াকওয়ে ধসে পড়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) মাহমুদ হোসাইন খানকে প্রধান করে সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.হাবিবকে সদস্য সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলী অথোরাইজড অফিসার মনজুর হাসানকে সদস্য করা হয়। তখন এ কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কমিটি। এসময় তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের যাবতীয় তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি কী কারণে এ ধসের ঘটনা সেটিরও প্রাথমিক একটি ধারণা করেছে। কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মূলত মাটির পাইলিং যথাযথভাবে না হওয়ায় রিটার্নিং ওয়ালের কয়েকটি ফুটো দিয়েই বালি সরে গিয়ে এ ধসের ঘটনা ঘটে। তবে একাজে সিডিএর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যথাযত মনিটরিংয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে তদন্ত কমিটির কাছে। এরপরও বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানতে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

এর আগে ১৩ জুলাই বহুল আলোচিত এ প্রকল্পের ওয়াকওয়ে ধসের ঘটনায় কাজের মান নিয়ে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

প্রসঙ্গত, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ২০০৫ সাল থেকে পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণের জন্য ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে জাইকা। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে চার লেনের এ সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আড়াই হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। উপকূলীয় বাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণ নামে এ প্রকল্পের আওতায় ১৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হবে। এর মধ্যে ১৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার মূল ও ২ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। এছাড়া প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে।

শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৮৬৫ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দুই বার সংশোধনের পর বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৭২০ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ও জাইকার সহায়তা ৭০৬ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।

এডি/এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!