চট্টগ্রামের পটিয়া বাসস্টেশন এলাকা থেকে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেয়। পরে মেয়েটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রোববার ওই কিশোরীকে উপজেলা প্রশাসন ও গাউসিয়া মানবিক টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ওই কিশোরীর নাম সিদরাতুল হুমায়রা প্রিয়া। তার বাবার নাম মোহাম্মদ ইকবাল। তার বাড়ি পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। তার এক ভাইয়ের নাম আসিফ এবং বড় বোনের নাম কিয়া বলে জানিয়েছে সে।
স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে মেয়েটিকে বাস স্টেশনের আশপাশে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে কথা বললে সে বিভ্রান্ত ও অসংলগ্নভাবে কথা বলছিল। পরে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা তাকে থানায় নিয়ে যায়।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, মেয়েটিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে থানায় আনা হয়। তার পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিবারের সন্ধান পেতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।
গাউসিয়া কমিটি মানবিক টিমের সদস্য মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, মেয়েটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা তার পাশে আছি এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছি।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, মেয়েটি বর্তমানে হাসপাতালে পর্যেবক্ষণে রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও মানসিকভাবে কিছুটা ভীত ও বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া কিশোরীটিকে মানসিক বিপদগ্রস্ত বলে দেখে মনে হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে কেউ চেতনানাশক কিছু পান করা হয়েছে। তার ঘুম ঘুম ভাব রয়েছে। আমরা তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিতে ভর্তি করানো হয়। স্বাভাবিক হলে বিস্তারিত বলতে পারবো। তাই আপাতত কিশোরীটিকে উপজেলা প্রশাসন ও গাউসিয়া কমিটি মানবিক টিম হাসপাতালে দেখভাল করছেন।
ডিজে




