আক্রান্ত
১১৭৬৪
সুস্থ
১৪১৪
মৃত্যু
২১৬

রাঙ্গামাটিতে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল বিরানভূমিতে পরিণত

0
high flow nasal cannula – mobile

চৌধুরী হারুনুর রশীদ, রাঙ্গামাটি: অবাধে গাছ কেটে নিধন করে পাচার করায় পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি সার্কেলের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল উজাড় হয়ে গেছে। এ সার্কেলের প্রায় ৬ লাখ একরের অধিক সরকারি সংরক্ষিত বন ধংস হয়ে গেছে। অবশিষ্ট বন ধংসের দ্বারপ্রান্তে। এসব বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পরিণত হয়েছে বিরানভূমিতে। এতে পার্বত্যাঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে জীব-বৈচিত্র। ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে বহু প্রজাতির বন্যপ্রাণী। এ পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চল থেকে পাচার হয়ে গেছে হাজার হাজার কোটি টাকার কাঠ। এজন্য ন্যাড়া হয়ে গেছে পাহাড়। পরিবেশ হারিয়ে ফেলছে ভারসাম্য। ফলে পার্বত্যাঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তনে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্বত্যাঞ্চলে প্রাকৃতিক বন ছাড়াও কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে সৃজন করা হয়েছিল সরকারি বন বাগান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল। কিন্তু বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী, পাচারকারীরা মিলে সেসব সমৃদ্ধ বনজ সম্পদ প্রকাশ্যে লুণ্ঠণ করে সাবাড় করে ফেলেছে। এতে পার্বত্যাঞ্চল পরিণত হয়েছে বিরান ভূমিতে। অনিয়ন্ত্রিত বন ব্যবস্থাপনা এবং অবাধে বৃক্ষ নিধন ও বন উজারের ফলে এখানকার বন ও বনজ সম্পদের অপরিমিত ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বর্তমানে টিকে রয়েছে শুধু কাপ্তাইয়ে সৃজিত জাতীয় উদ্যান। কর্ণফুলী নদীর কোল ঘেঁষে প্রায় ১৩ হাজার একর বিস্তৃত জায়গায় সৃজিত এ জাতীয় উদ্যানটি ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় বনভূমি নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত সময়ে বছরের পর বছর শুধু রাঙ্গামাটি জেলায় ৬ লাখ একরের অধিক সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধংস করা হয়েছে। ফলে পার্বত্যাঞ্চলের বিস্তীর্ন বনভূমি মরু ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে হারিয়ে গেছে অসংখ্য প্রজাতির বন্যপ্রাণী। একটি জরিপে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ অবাধ নিধন ও পাচারের ফলে ইতিমধ্যে রাঙ্গামাটি জেলার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৪০.৮ একর কাঁচালং সংরক্ষিত বন, ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৭.৬০ একর রাইংখিয়ং সংরক্ষিত বন এবং ৫৮২.৪০ একর বরকল সংরক্ষিত বন ধংস হয়ে গেছে। সেসব বনাঞ্চল এখন বৃক্ষশূন্য হয়ে ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হয়েছে।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা সৃষ্টির দু’বছর পরে ১৮৬২ সালে বনজদ্রব্য থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টোল ষ্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে বন ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া। অত:পর ১৮৬৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের বন এলাকার দায়িত্বে একজন সহকারী বন সংরক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। সরকারি তথ্য সূত্রে বলা হয়েছে, ১৮৭১ সালে তৎকালীন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার ৬,৮৮২.০ বর্গমাইল ভূমির মধ্যে ৫,৬৭০.০ বর্গমাইল ভূমিই সরকারি বন ঘোষিত হয়। এসব বনাঞ্চলের কাঁচালং সংরক্ষিত বন, রাইংখিয়ং সংরক্ষিত বন এবং বরকল সংরক্ষিত বন ধংস হয়ে গেছে। ১৯০৯ সালে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে পৃথক হয়ে আত্মপ্রকাশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বন বিভাগ। নিয়ন্ত্রণে আসে কাচালং, রাইংখিয়ং, সীতাপাহাড়, মাতামূহুরী ও সাংগু ব্লকের আরও ১ হাজার ৬৫ বর্গমাইলের সংরক্ষিত বন এলাকা এবং ৪ হাজার ৩০ বর্গমাইলের অশ্রেণীভূক্ত বনাঞ্চল। ১৯৯০ সালে সরকারিভাবে বনের গাছ বর্তন বন্ধ ঘোষণা করা হলেও বন রক্ষায় আর কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে দিনের পর দিন অবাধে চলতে থাকে পার্বত্য এলাকার বৃক্ষ নিধন ও বনজ সম্পদ পাচার কাজ। এতে পার্বত্যাঞ্চলের বনভূমি ধংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছায়।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm