রাঙ্গামাটিতে জেলা প্রশাসন ভুমি বন্ধকী অনুমতি বন্ধ !

0

চৌধুরী হারুনুর রশীদ,রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটিতে জেলাপ্রশাসন ভুমি বন্ধকী নেওয়ার অনুমতি বন্ধ দিয়েছেন। এতে জমির মালিকরা বাড়ী নিমার্ণ করতে গিয়ে ব্যাংক ঋণ নিতে নতুন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ট্রি হয়েছে। এসব জটিলতায় বিভিন্ন ব্যাংক ঋণ গ্রহনে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও হয়রানীর স্বীকার হচ্ছে । জেলা প্রশাসনের কার্য্যলয়ে বন্ধকী অনুমতি প্রদান না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পড়েছে বিপাকে ।
পার্বত্য বিষয়ক আইনে বলা আছে,জেলা প্রশাসক ,সরকার বা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক,শিল্প উন্নয়ন ব্যাংক, বা বেঙ্গল কো-অপারেটিভ সোসাইটি এর ১৯৪০ সালের ২১ নং অনুসারে নিবন্ধনকৃত সমবায় সমিতি সমুহ বা পুর্ব পাকিস্তান তথা কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন মতে উপযুক্ত অন্য যে কোন ঋণ প্রদানকারী সংস্থার অনুকুলে সাধারণ বন্ধকের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন। অবশ্যই জেলা প্রশাসক অত্র প্রজ্ঞাপন জারী হইবার,পুর্ব হইতেই যেই কোন হোল্ডিং এর বন্ধকঅ অনুমোদন করিতে পারিবেন। পার্বত্য বিষয়ক আইনে ৩৩ পৃষ্টায় ৬নং উপধারা বলা হয়,যে কোন অননুমোদিত সাব-লীজ বা হস্তান্তর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভুমি জেলা প্রশাসক পুন:গ্রহন করিতে পারিবেন।
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন রাঙ্গামাটি রিজিয়ন ম্যানজার আল মাসুদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলাপ্রশাসক জমির মালিকানা সঠিক কিনা যাছাই বাছাই করে বন্ধকি অনুমতি পত্র প্রান করে থাকেন । আমরা দীর্ঘদিন ধরে জেলাপ্রশাসন থেকে বন্ধকী অনুমতি নিয়ে কোটি কোটি টাকার দিয়ে আসছি। হঠাৎ বন্ধকী অনুমতি পত্র বন্ধ করে দেওয়ার গ্রাহকগণ পড়েছে বিপাকে। তিনি আরো বলেন, আমি রাঙ্গামাটি রিজিয়ন অফিস ইনচার্জ হিসাবে জেলা প্রশাসকের বরাবরে আবেদন করবো।
এ বিষয়ে এডিসি রেভিনিউ প্রকাশ কান্তি চৌধুরী জানান,সমতলভুমিতে সকল প্রকার বন্ধকীর অনুমতি দিয়ে থাকে ।পার্বত্য চট্টগ্রামে কেন জেলাপ্রশাসন ব্যাংক ঋণে পুর্ব অনুমতি দিবে। এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লিখিত আবেদন করলে জেলা প্রশাসন যথাযথ জবাব দিতে পারবেন।
তিনি পার্বত্য বিষয়ক আইনে ৩২ পৃষ্টায় ৫নং উপধারা দেখিয়ে এড়িয়ে যান। উল্লেখযোগ্য এসব ধারায় বলা হয়েছে কোন লীজি বা সাব-লীজি জেলা প্রশাসকের পুর্ব সম্মতি ব্যতিরেকে তাহার হোল্ডিং এর সম্পুর্ণ বা অংশ বিশেষ বিক্রয় দান কিংবা বন্ধকের মাধ্যমে হস্তান্তরের অনুমতি প্রাপ্ত হইবেন না। জেলা প্রশাসক ৭ বছরের অধিক মেয়াদের নয়,এমন খাইখালাসী বন্ধক ছাড়া অন্য কোন প্রকার বন্ধকের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন না। যদি কোন কারণে মেয়াদে বৃদ্ধি করা না হয়,তাহা হইলে অনুরুপ বন্ধকের মেয়াদ উক্তীর্ণ হইবার সাথে সাথে মুল ঋণ ও সুদসহ সকল পাওনা বিলুপ্ত হইয়া যাইবে।
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন চট্টগ্রাম অফিসের জোনাল ম্যানজার অনিল বিকাশ চাকমা মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলাপ্রশাসক জমির মালিকানা সঠিক যাছাই বাছাই করে বন্ধকি অনুমতি পত্র প্রান করে থাকেন । এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে যুগ যুগ ধরে সকল ধরনের রেজিষ্ট্রী,হস্তান্তর,দান,বন্ধকী ও নামজারী কার্যক্রম করেন একমাত্র জেলা প্রশাসক। সমতল ভুমিতে এসব কার্যক্রম করে থাকেন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস ।
জানাগেছে,যুগ যুগ ধরে পার্বত্য এলাকায় যে কোন অনুমদিত সাব লিজ বা হস্তান্তর ও ভুমি বন্ধকী কার্যক্রম জেলা প্রশাসন করে আসছে । সাবেক জেলাপ্রশাসক শামসুল আরেফিন বিভিন্ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন সকল ব্যাংকে এল আর ফান্ডের ফি নিয়ে বাড়ী বন্ধকীর অনুমতি দিয়েছেন।কিন্তু বর্তমান জেলা প্রশাসক ভুমির পুন:অনুমতি গ্রহন বন্ধ রাখা হয়েছে। কি কারণে বন্ধ রেখেছে তার কোন সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন